বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না: নীলফামারীতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গর্জন

০ টি মন্তব্য 6 ভিউ 12 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

লিটন সরকার, নীলফামারী
print news | শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না: নীলফামারীতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গর্জন | সমবানী

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিচার ও জবাবদিহির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নীলফামারী। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে জনগণের আদালতে বিচারের দাবিতে এবং জুলাই-আগস্টে শহীদ হওয়া ছাত্র-জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, রবিবার (২২ জুন ২০২৫) সকালে নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী মানববন্ধন।

এই মানববন্ধনে অংশ নেন শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের সদস্য, আহত ছাত্র, রাজনৈতিক দলসমূহের নেতা-কর্মী, শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষক, সাংবাদিক ও পেশাজীবী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন—

“যে সরকার রাষ্ট্রীয় বন্দুক ব্যবহার করে ছাত্রদের রক্ত ঝরায়, যে সরকার আন্দোলনকারীদের গুম-খুন করে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু রাখে—সে সরকার ইতিহাসের কসাই। আওয়ামী লীগ শুধুই একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ফ্যাসিস্ট মেশিন—যারা দেশের সংবিধান, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে এসেছে। এখন তাদের অনেক দোসর আত্মগোপনে থেকে জামিনে বেরিয়ে আবার নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ছাড় দেওয়া মানে শহীদদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা।”

তিনি আরও বলেন—

“স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এখন দেশ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমরা তাকে এই মাটিতে ফিরিয়ে আনব। জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলব—এই যে রক্ত, এই যে কান্না, এর জবাব দাও! অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি—আপনারা যদি সত্যিই নিরপেক্ষ হতে চান, তাহলে আওয়ামী দমন-পীড়নের বিচার শুরু করুন এখুনি।”

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা গুলি খেয়ে আহত হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। তাদের চোখে ছিল ক্ষোভ, ছিল প্রতিশোধের শপথ।

আহত এক ছাত্র বলেন—

“আমরা আন্দোলনে ছিলাম—রক্ত দিয়েছি। আজ দেখি সেই খুনিরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার মাঠে নেমেছে, আবার ষড়যন্ত্র করছে। তাহলে কি শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে? তা আমরা হতে দেব না।”

আরেক ছাত্র বলেন—

“শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি না করলে এই দেশ কোনোদিন শান্তি পাবে না। শহীদের আত্মা আর এই জনতার রোষ—দুই-ই তখন জেগে উঠবে।”

এই মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক নেতা, শিক্ষক সমাজ, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, কৃষক—সবাই এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

বক্তারা বলেন—
“আওয়ামী লীগ শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন করেনি—তারা জাতিকে ধ্বংস করেছে, বিচার বিভাগকে বিকৃত করেছে, বাকস্বাধীনতাকে হত্যা করেছে। এদের বিচার ইতিহাসের প্রয়োজন, ন্যায়ের দাবি।”

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“বর্তমানে যেসব আওয়ামী খুনি, গুমকারী, নির্যাতনকারী আত্মগোপনে ছিল, তারা এখন জামিন পেয়ে আবার সংগঠিত হচ্ছে। তারা আদালতের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসে রাজপথে ঘুরে বেড়াচ্ছে, মিডিয়ায় বক্তৃতা দিচ্ছে। এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”

বক্তাদের আহ্বান—

“জামিনপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন। একবার যদি আবার তারা সক্রিয় হয়, তাহলে সামনে আর গণআন্দোলন নয়—গণবিচার হবে।”

মানববন্ধন জুড়ে ছিল শত শত মানুষের গলা ফাটানো স্লোগান—

“শেখ হাসিনার বিচার চাই—শহীদের রক্ত ফিরিয়ে চাই!”
“ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক!”
“আওয়ামী খুনিদের জামিন নয়—কারাগারে চাই!”
“শেখ হাসিনা তুমি পালিয়ে বাঁচতে পারবে না!”

মানববন্ধন থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে। সেগুলো হলো:

  1. আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত সব খুন-নির্যাতনের বিচার শুরু করতে হবে।
  2. আত্মগোপনে থাকা ও জামিনপ্রাপ্ত খুনিদের পুনরায় গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
  3. শহীদ পরিবার, আহত আন্দোলনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
  4. স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে।
  5. বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে।

মানববন্ধনের ছাত্রনেতা শহীদুল ইসলাম বলেন—

“আমরা আর ধৈর্য ধরব না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এখনি বিচার শুরু না করে, তাহলে আমরা রাজপথে ন্যায়ের কাঠগড়া তৈরি করব। কারণ শহীদের রক্ত আমাদের কাছে ঋণ—আর সেই ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।”

নীলফামারীর এই মানববন্ধন শুধুই একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল না—এটি ছিল প্রতিজ্ঞা, এটি ছিল গণআবেগের জাগরণ। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের জেগে ওঠা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা—
“জবাবদিহি করুন, নইলে ইতিহাস আপনাদেরও ছাড়বে না।”

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

থেকে আরও পড়ুন

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading