সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউখালীতে দুই চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলা হাসপাতাল। 

০ টি মন্তব্য 21 ভিউ 7 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী (পিরোজপুর)
print news | কাউখালীতে দুই চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলা হাসপাতাল।  | সমবানী

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে একটি উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী দেখছেন মাত্র দুইজন চিকিৎসক। ভর্তিকৃত আরো অর্ধশতাধিক রোগীর দেখভালও তাদের হাতে। একে তো চিকিৎসক সংকট অন্যদিকে ভবন সংকট তার উপর রয়েছে ঔষধ সংকট সব মিলিয়ে কাউখালী উপজেলার বাসিন্দারা কাঙ্খিত চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ছুটছেন অন্যত্র। ফলে ভেঙ্গে পড়েছে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর চিকিৎসা সেবা।

১৪ জন ডাক্তারের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ২ জন। অত্র উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন এই ২ জন চিকিৎসক। ফলে জরুরী বিভাগ, বহিঃ বিভাগ ও অন্তঃ বিভাগে এই দু’জন ডাক্তারকেই চিকিৎসা সেবা দিতে হয়। অন্যদিকে কাউখালী উপজেলার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় ও মূল ভবন ভেঙ্গে ফেলায় ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ অস্থায়ী ভবনে চলছে এর কার্যক্রম। ওয়ার্ডে ৩১টি বেড থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ২০টি।

কখনোবা এক একটি বেডে ২/৩ জন রোগীও থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে হাসপাতালে এক্স-রেসহ জরুরী কোন পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই, প্রয়োজনীয় ঔষধ নেই। ফলে চিকিৎসা সেবা দিতে একদিকে যেমন হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ ঠিক অন্যদিকে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষেরা।

এক যুগ ধরে ভবনটি নির্মানের জন্য দুই দুই বার টেন্ডার হলেও শেষ বার কাজ না করেই টাকা নিয়ে চলে যায় ঠিকাদার। প্রভাবশালী হওয়ায় ঠিকাদারের টিকিটিও ধরতে পারেনি কেউ। ফলে অস্থায়ী ভবনে আতঙ্কের সাথে একত্রে বাস করছেন রোগী, চিকিৎসক আর স্টাফরা।
মারাত্মক চিকিৎসক সংকট সমাধানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ডিজি হেলথসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় সকল দপ্তরেই ধরনা দিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত মিলেনি কোন সমাধান।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মাসুম বিল্লাহ ও মুক্তা বেগম বলেন হাসপাতালে নির্ধারিত চিকিৎসক না থাকায় আমাদের চিকিৎসা সেবা নিতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় আমরা চিকিৎসক না পেয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় চিকিৎসা নেওয়ার জন্য চলে যাই। সেবা গৃহিতা আবুল বাশার বলেন আমাদের মতন গরিব-রোগীদের অন্য উপজেলায় যেয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়, ফলে আমরা চিকিৎসা সেবার অভাবে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হই।

কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সুজন সাহা বলেন, মাত্র দুইজন চিকিৎসক দিয়ে কিভাবে আমরা সেবা দিতে পারি? এখানে কর্মরত মেডিকেল অফিসাররা দিনে ও রাতে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। জনবলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মিজানুর রহমান চিকিৎসক সংকটসহ চিকিৎসা সেবা ব্যহত হওয়ার কথা স্বিকার করেছেন। তিনি আশা করছেন অতি শিঘ্রই চিকিৎসক সমস্যার সমাধান হবে।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

থেকে আরও পড়ুন

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading