শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের পশ্চিম ​পটিয়ায় এম আর একাডেমির নবীন বরণ, মেধা অন্বেষণ, পুরস্কার বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

০ টি মন্তব্য 12 ভিউ 16 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

বিপ্লব দাস, চট্টগ্রাম
print news | চট্টগ্রামের পশ্চিম ​পটিয়ায় এম আর একাডেমির নবীন বরণ, মেধা অন্বেষণ, পুরস্কার বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত | সমবানী

আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার অনন্য বিদ্যাপীঠ ​চট্টগ্রামের পটিয়া কুসুমপুরাস্থ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “এম আর একাডেমি’র উদ্যোগে ২০২৫ সালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও ২০২৬ সালের নবীন বরণ, বিশেষ সম্মাননা প্রদান এবং ইফতার ও দোয়া মাহফিল এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ২টায় কুসুমপুরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন এম আর একাডেমির নতুন ভবনের ছাদে হল অডিটোরিয়ামে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনসার কমান্ডার খলিলুর রহমান মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক আলহাজ্ব এম মুছিবুর রহমান বাবুল।

প্রধান বক্তা হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন ড. বিকিরণ অধ্যক্ষ প্রীতিলতা ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রনব রাজ বড়ুয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব জলদাস এবং কুসুমপুরা এলাকার গর্বিত সন্তান আমিন উল্লাহ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, লেখক, কবি ও শিক্ষক মাহফুজ রকি।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব এম মুছিবুর রহমান বাবুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হতে হবে। শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া বড় কথা নয়, প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই মূল সার্থকতা। এম আর একাডেমি যেভাবে মেধার মূল্যায়ন করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এ ধারা অব্যাহত থাকলে এখান থেকে আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হবে।”

প্রধান বক্তা প্রনব রাজ বড়ুয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন,“শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো শৃঙ্খলা এবং নৈতিকতা। পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করে অনেক বড় ডিগ্রি হয়তো নেওয়া যায়, কিন্তু পরিবারের বড়দের এবং মা-বাবার আদর্শ ও আদেশ-নিষেধ মান্য না করলে সেই শিক্ষার কোনো মূল্য নেই। এম আর একাডেমির শিক্ষার্থীরা যেভাবে নীতি-নৈতিকতার চর্চা করছে, তা আমাদের সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিপ্লব জলদাস এম আর একাডেমির শিক্ষা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এম আর একাডেমি শুধু একটি পাঠদান কেন্দ্র নয়, এটি মানসম্মত শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রসারের একটি প্রকৃত কেন্দ্রস্থল। শিক্ষক মাহফুজ রকির মতো একজন উদ্যমী ও আদর্শবান শিক্ষকের হাত ধরে পটিয়ার এই অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ছে যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

বিশেষ অতিথি আমিন উল্লাহ বলেন, শুধু পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া সম্ভব নয়, যদি না পরিবারের বড়দের ও মা-বাবার আদর্শ এবং আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়।

​একাডেমির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফিয়া জান্নাত আদিবা এবং ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তারিন আকতার জানায়, এম আর একাডেমি তাদের গর্ব ও হৃদয়ের প্রাণের স্পন্দন প্রিয় শিক্ষক মাহফুজ রকি স্যারের আদর্শ ও মানবিক গুণাবলি তাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে এবং তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনায় প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা অভাবনীয় ফলাফল অর্জন করছে। প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপূর্ব দত্ত তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এম আর একাডেমির শিক্ষার্থী হতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত।

পটিয়ার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন সচরাচর দেখা যায় না। অপরদিকে,আরেক কৃতি শিক্ষার্থী ও সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক নূরে মোহাম্মদ আশেক উল্লাহ রিসাত তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, এম আর একাডেমি কেবল একটি শিক্ষা কেন্দ্র নয়।বরং এটি নীতি-নৈতিকতা শেখার শ্রেষ্ঠ জায়গা।তারা এমন একজন শিক্ষকের সান্নিধ্যে আসতে পেরে নিজেদের গর্ব ও ধন্য মনে করছে।কারণ এখানকার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় এমনভাবে গড়ে উঠছে যা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। তিনি এই সাফল্যের সকল কৃতিত্ব তাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জনাব মাহফুজ রকি স্যারকে দিয়ে তার দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন।

​সাফল্যের অগ্রযাত্রা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাহফুজ রকি বলেন, তাদের লক্ষ্য কেবল পরীক্ষায় ভালো জিপিএ অর্জন নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীকে আলোকিত, বিনয়ী ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের মেধা ও অভিভাবকদের আস্থাই এই প্রতিষ্ঠানের পথচলার মূল শক্তি। অনুষ্ঠানে এম আর একাডেমির আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ হতে বিনয়ী ও অনুগত ছাত্রী হিসেবে শ্রেষ্ঠ সদাচরণ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফিয়া জান্নাত আদিবা-কে। একই সাথে একাডেমির ফেব্রুয়ারী মাসের শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবে বিশেষ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক লেখক ও শিক্ষক মাহফুজ রকি-কে।

​পুরস্কার বিতরণের মূল পর্বে ২০২৫ সনের চূড়ান্ত মডেল টেষ্ট পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করায় সম্মাননা ম্মারক গ্রহণ করে এসএসসি ২০২৬ বিদায়ী শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের চুড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১ম,২য় ও ৩য় স্থান অধিকার করায় পুরস্কার গ্রহণ করে ৬ষ্ঠ শ্রেণির অনি নাথ,জান্নাতুল আদন,মোঃ জিয়াউদ্দিন কাদের জিহান, ৭ম শ্রেণির যুগ্মভাবে ১ম স্থান শতদ্রু নাথ,তানিশা আকতার,নিলয় মালাকার,নাহিদা সুলতানা,৮ম শ্রেণির তাসফিয়া জান্নাত,মোঃ সানজিদুল ইসলাম অভি, তারিন আকতার,৯ম শ্রেণির ফারিয়া, এবং ১০ম শ্রেণির জান্নাতুল নাঈমা,উম্মে সৈয়দাতুন নেছা ইসফা,জামিয়া সুলতানা-কে “সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড” ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত সমন্বিত মেধা তালিকায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হওয়ার গৌরব অর্জন করায় শতদ্রু নাথ-কে “শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী সম্মাননা” প্রদান করা হয়।

আদর্শ শিক্ষার্থী হিসেবে ও এম আর বিশেষ অবদানের জন্য সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক অপূর্ব দত্ত এবং নূরে মোহাম্মদ আশেক উল্লাহ রিসাত-কে “শ্রেষ্ঠ আদর্শ সদাচরণ ও বিশেষ অবদান অ্যাওয়ার্ড” দেওয়া হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য নির্বাচিত অভিভাবকদের হাতে “শ্রেষ্ঠ অভিভাবক সম্মাননা” তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন ও এম আর একাডেমির উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করা হয়।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading