রবিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবর্ধনার জবাবে এএসপি জামশেদ আলম কর্ম ক্ষেত্রে সিলেট আমার দ্বিতীয় জন্মভূমি

০ টি মন্তব্য 7 ভিউ 14 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

সিলেট
print news | সংবর্ধনার জবাবে এএসপি জামশেদ আলম কর্ম ক্ষেত্রে সিলেট আমার দ্বিতীয় জন্মভূমি | সমবানী

বাংলাদেশ পুলিশের সিলেট অঞ্চলের সাহিত্য প্রেমিক একজন কর্মকর্তার মধ্যে অন্যতম সাহিত্য প্রেমি, লেখালেখি তো অভ্যস্ত পুলিশ বিভাগের এক মানবিক কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর জমশেদ আলম। যিনি পদোন্নতি পেয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে। সম্প্রতি এএসপি হিসেবে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, RANK BADGE পরিয়ে দেন তাকে।

প্রিয় মানুষের পদ উন্নতির খবরে আনন্দে উদ্বেলিত বন্ধু মহল, স্বজন প্রিয়জন সকলেই।

আয়োজন করা হয় বন্ধু মহলের পক্ষ থেকে সম্বর্ধনার। গত ২৪ অক্টোবর শুক্রবার রাতে নগরীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে।
সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বন্ধু মহলের ভালবাসায় সিক্ত হন পরির্দশক থেকে সহকারী পুলিশ সুপার পদে সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত মো. জামশেদ আলম।

দৈনিক যুগান্তরের সিলেট ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক সংগ্রাম সিংহের সভাপতিত্বে ও দৈনিক সংবাদের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক আকাশ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট- এর ট্রাস্টি এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সুদীপ সেন বাপ্পু বলন, আমরা কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা দিচ্ছি না, একজন মানবিক ও গুণী মানুষকে সম্মাননা জানাচ্ছি । তিনি বলেন, ছাত্র জীবন থেকে জামশেদ আলম লেখালেখির সাথে জড়িত। কর্মজীবনে অনেকের কাছে তিনি এক মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা। তার আচরণে কোনই পুলিশিং মনোভাব আমরা দেখিনি।

সংবর্ধনার জবাবে মো. জামশেদ আলম বলেন, কর্মজীবন শুরু করেছিলাম সিলেটে । সিলেট আমার কর্মক্ষেত্রে যে ভালোবাসা পেয়েছি তাতে মনে হয় সিলেট আমার দ্বিতীয় জন্মভূমি। প্রায় সব জায়গায় চাকরি করেছি কিন্তু কোন জায়গায় আমার শত্রু আছে এমনটা মনে হয় না। আমার পদোন্নতিতে আজ বন্ধু মহল আমাকে সংবর্ধনা দিয়ে আজীবন তাদের মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ করলো। আমি বন্ধু মহলসহ সিলেটবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ক্রিড়া ব্যক্তিত্ব নূরে আলম খোকন, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক জহিরুল ইসলাম, ঢাকা থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক সমবানী সম্পাদক ও প্রকাশক এম,এ,অন্তর হাওলাদার।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এন টিভির সিনিয়র ক্যামেরা পার্সন আনিস রহমান, বিশিষ্ট বাউল শিল্পী বিরহী কালা মিয়া, ডেইলিষ্টারে স্টাফ ফটোগ্রাফার শেখ আশরাফুল আলম নাসির, বৈশাখী টিভি সিলেট প্রতিনিধি এস সুটন সিংহ, সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেস ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ঢাকার ডাক এর সিলেট ব্যুরো প্রধান এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ইমজার সহ-সভাপতি ও বাংলা টিভির সিনিয়র ফটোগ্রাফার এস আলমগীর, আর টিভির সিলেট প্রতিনিধি হাসান মোহাম্মদ শামীম, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের প্রদীপ মজুমদার, ফার্মাসিস্ট বিধান রায়, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য রঞ্জিত সিংহ , নিউজ টোয়েন্টিফোর-এর ক্যামেরা পার্সন হাসান সিকদার সেলিম , দৈনিক সমাচারের প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন, সিটি কর্পোরেশনের চাকুরীজীবী শাওন বর্মন, সমাজকর্মী আব্দুল
মোমেন।

উল্লেখ্য, শিক্ষা জীবনের একটা পর্যায়ে থেকে সাহিত্যপ্রেমী ছিলেন জামশেদ আলম, লিখতেন কবিতা প্রবন্ধ , পরবর্তী পর্যায়ে কাজ করতেন কলম সৈনিক হিসেবে দৈনিক আজাদী পত্রিকায়। সেই থেকেই তার সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা আর সাহিত্যচর্চার মানুষের প্রতি প্রেম ভালোবাসার প্রীতি। পুলিশ বিভাগের যোগদানের পরও করেননি তিনি তার ইতি। কিছুটা কম হলেও লেখালেখি দেখেছেন অব্যাহত। সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছে সাহিত্যপ্রেমী আর সংবাদপত্রের দ্বারক-বাহকদের সাথে। সিলেটে ও তার সম্পর্ক মিডিয়া উল্লেখযোগ্য।

ষোড়শ দশকের শুরু থেকে যে অঞ্চলে বাংলা সাহিত্যচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল সেই মীরসরাই উপজেলার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান জামশেদ আলম। সাহিত্যচর্চা যেন তার বুনিয়াদি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা বা মন থেকে ঘৃণা করার অভ্যাস ও তার জন্মগত। কারণ ইংরেজ শাসনামলের শেষ দিকে চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের অন্যতম কেন্দ্র ছিল মীরসরাই। আর সেখানেই তার বেড়ে ওঠা।

সহকারী পুলিশ সুপার জামশেদ আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্সে প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৯২ সালে সরাসরি যোগদান করেন এস আই পদে । মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম যোগদান করেন সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজারে পিএসআই হিসেবে । সিলেটেই শুরু হয় কর্মজীবন। ১৯৯৭ সালে তিনি হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার সিলেট জেলার বিভিন্ন থানায় এসআই হিসেবে সোনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবিতে যোগ দেন।

২০০৯ সাল থেকে ১০ সাল তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মদক্ষতা দিয়ে অর্জন করেন পুরস্কার। এতে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নতি হয় আন্তর্জাতিক মহলে। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ইন্সপেক্টর তদন্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে পুনরায় শাহজালালের পূণ্যভূমি সিলেটে এস এমফিল ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেন যথাযথভাবে। ২০১৪-১৫ সালে তিনি সীমান্ত জলপদ সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা উন্নতি ঘটিয়ে সুনাম অর্জন করেন।

২০১৬ থেকে ২১ কর্মদক্ষতার কারণে পুনরায় এসএমপির ডিবিতে পদায়ন করা হয় তাকে। এ সময় তিনি পর্যায়ক্রমে সিটি এস বি ও কোর্টের দায়িত্ব পালন করেন। পরে কিছু দিনের ঢাকায় এস বি তে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সিলেটে আবারো ফিরেন ২০২৩ সালে সিলেটের কোট ইন্সপেক্টর হিসেবে। সেখানে থেকেই পুলিশ বিভাগে তিন দশকের বেশি সময় পর পদোন্নতি পান সরকারি পুলিশ সুপার হিসেবে। যে সময় পুলিশে পদোন্নতি পাওয়া অনেক দুষ্কর সে সময় তার পদোন্নতি , শৃঙ্খলা ‌, সততা আর নিস্টারকারণে এমনটাই মনে করছেন বন্ধু মহল, সচেতন মহল ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading