বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৬ বছর পরে প্রিয় বিদ্যাপীঠে বন্ধুদের মিলন মেলা খুশিতে মেতে উঠে সবাই

০ টি মন্তব্য 10 ভিউ 9 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি, দিনাজপুর
print news | ৩৬ বছর পরে প্রিয় বিদ্যাপীঠে বন্ধুদের মিলন মেলা খুশিতে মেতে উঠে সবাই | সমবানী

‘এসে মিলি প্রাণের টানে, ফিরে যাই-শৈশবে, মেতে উঠি উৎসবে’ এই শ্লোগানে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় খাট্রাউছনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৩৬ বছর (তিন যুগ) পরে ১৯৮৯ এস এস সি ব্যাচের বন্ধু-বান্ধবীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটায় খাট্রাউছনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে ১৯৮৯ এস এস সি ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্মৃতিচারণ প্রাক্তন শিক্ষকদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘ ৩৬ বছর পরে প্রিয় বিদ্যাপীঠে বন্ধু-বান্ধবী, ছেলে, মেয়ে, নাতি-নাতনীদের নিয়ে ঈদুল ফিতরের পরে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সবাই মেতে উঠে উৎসবে। প্রত্যকে তাদের ছেলে মেয়ে আবার কারও নাতী নাতনিদের সাথে নিয়ে আসছে এই উৎসবে। একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে খোশগল্পে মজে যায় বন্ধু বান্ধবীরা।

এরপরে এস এস সি ১৯৮৯ ব্যাচের মোঃ রবিউল ইসলাম টুটুল এর সঞ্চালনায় এবং খাট্রাউছনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃমোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।

এসময় অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক মোঃ সুলতান মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ ৩৬ বছর পরে প্রিয় বিদ্যাপীঠে আমরা একত্রিত হতে পেরেছি এতে আমি আনন্দে আত্মহারা! আমার বলার অনূভুতি হারিয়ে ফেলেছি। মূলত দীর্ঘদিন পরে বন্ধু বান্ধবীদের মিলন মেলা, প্রাক্তন শিক্ষকদের সাথে কুশল বিনিময় ও খুশিতে মেতে উঠবে সবাই এর জন্যই এই আয়োজন।

উক্ত ব্যাচের আরেক একজন গোপাল চন্দ্র স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, সে সময়ে আমার শিক্ষকরা যে শিক্ষা দিয়েছে। সেই শিক্ষা থেকেই আজও আমি আমার ছেলে মেয়েদের শিক্ষা দেয়। তাদের কোন প্রাইভেট দেয় না। আমি বর্তমানে রংপুরে উপজেলা সমবায় অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি।

আব্দুল মজিদ ও নুরুজ্জামান দুই বন্ধু স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমরা সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলাম। চাকরি জীবন শেষ করে ছেলে মেয়ে নাতী নাতনিদের সাথে বেশ ভালো আছি। দীর্ঘ দিন পরে বন্ধু সুলতানের উদ্যোগে আজকের আয়োজন। এখানে সবাই একত্রিত হতে পেরে সত্যিই আমরা আনন্দিত।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, ১৯৮৩ সালে আমি এই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। এরপরে সাফল্যের সাথে দীর্ঘদিন চাকুরির পরে ২০২১ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করি। আমি প্রথম তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি যারা এই প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছেন। আজকে আমাদের প্রাক্তন শিক্ষকদের যেভাবে সম্মান দেওয়া হয়েছে এতে সত্যিই অভিভূত এবং আমাদের ছাত্ররা বিভিন্ন অফিসার, সেনাবাহিনী ও শিক্ষককতায় পেশায় আছেন শুনে আজ মনে হচ্ছে আমরা সার্থক। আমরা মানুষের মতো মানুষ তৈরি করতে পেরেছি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি নিজেও ১৯৮৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী। আজ এই স্কুলের প্রধান শিক্ষককের দ্বায়িত্বে আছি। এটা আমার আত্মগর্ব। আমি এখানে যতদিন প্রধান শিক্ষককের দ্বায়িত্বে আছি আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

স্মৃতিচারণ শেষে প্রাক্তন শিক্ষকদের সংবর্ধনা হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সেই সাথে উপস্থিত সকল বন্ধু বান্ধবীদের ক্রেস্ট তুলে দেন প্রাক্তন শিক্ষক বৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষক মোঃ আফজল হোসেন, মোঃ মোখলেছুর রহমান, মোঃ সিদ্দিক হোসেন, মোঃ এমদাদুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ আজাদ হোসেন। এছাড়াও ৮৯ ব্যাচের পরিতোষ চন্দ্র, বজলুর রশিদ, মাবুদ হোসেন, নাসরিন বেগম, নিলুফা ইয়াসমিন সহ অনেকে।

দুপুরে জুম্মা নামাজ শেষে ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকসহ একসাথে দুপুর খাবার শেষ করেন।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading