প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারে পর্যটকদের ঢল
প্রতিনিধিঃ
মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার
প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্যরে অপার লীলাভূমি চায়ের দেশ খ্যাত মৌলভীবাজারের। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটিতে চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে দর্শনার্থীদের ভীর লক্ষ্য করা গেছে। চায়ের রাজ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা। নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে দর্শনার্থীরা ঘুরে বেড়িয়েছেন বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে। এবারের ঈদের আনন্দটা ছিল একটু অন্যরকম। কোন স্পট রেখে কোথায় যাবো নির্ধারন করা মুস্কিল হয়ে যায়। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।
সরেজমিনে ঈদের দিন ঘুরে দেখা গেছে, হৈহুল্লোড় ও জলকেলিতে এক অপূর্ব সুন্দর সময় কাটান এখানে ঘুরতে আসা মানুষ। গত বছরের চেয়ে এবার পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের ছুটিতে শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা মৌলভীবাজার জেলাতে পর্যটকরা ছুটে আসেন। মৌলভীবাজার জেলায় ৭টি উপজেলাতে পর্যটকদের কাছে- মৌলভীবাজার, বড়লেখা, কুলাউড়া, জুড়ী, রাজনগর, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল যেন দেখার শেষ নেই। পাহাড়, নদী আর চা-বাগানের সৌন্দর্য টানে পর্যটকরা। পর্যটন এলাকার চায়ের দোকান, রেস্তোরাঁয় ভিড় দেখা গেছে।
জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে ৯২টি চা-বাগান ও শতাধিক পর্যটন স্পট। মৌলভীবাজার জেলায় পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর ও মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাইক্কা বিল হাইল হাওর, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডশন ,বধ্যভূমি-৭১, বিটিআরআই চা বাগান এলাকা, রাবার বাগান, সাত লেয়ারের চা, মনিপুরি পাড়া ও পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ, টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন টি রিসোর্টি এন্ড টি মিউজিয়াম, কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বীর শ্রেষ্ট হামিদুর রহমানের স্মৃতি সৌধ, হাম হাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, আনারস ও লেবু বাগানসহ ইত্যাদি এই জেলা পর্যটকের জন্য প্রধান আকর্ষণ।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়েদুল হক রবিন বলেন, এই প্রথম মাধকুণ্ডে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর। মৌলভীবাজারে অনেক সুন্দর পর্যটন স্পট রয়েছে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন,মাধবকুণ্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশ তার কাছে খুবই ভাল লাগে তাই ছুটি পেলে বছরে দুই-একবার পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাই। এবার বাইরে গরম বেশি। চারদিকে সবুজ চা-বাগানের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছি। প্রশান্তি লাগছে। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে মন চাচ্ছে।’
ফাতেমা বেগম নামের একজন পর্যটক বলেন, ‘চা-বাগানে এসে ছবি তুললাম। এই প্রথম চা-বাগানে আসা। যেদিকে যাচ্ছি, ভালো লাগছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, পর্যটন কেন্দ্রে আসা মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুব্যবস্থা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এখানকার থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।
ঈদের ছুটি বেশ লম্বা থাকায় প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে নজরদারি রাখছি। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘোরাফের করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারে আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, পর্যটন কেন্দ্রে আসা মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুব্যবস্থা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এখানকার থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে র্যাব, সাদা পোশাকে ট্যুরিস্ট পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি আমরা।’
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
