শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গুয়ার নজর খালী বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকছে।৮২ গ্রামবাসীর বাঁধ নির্মাণের দাবী পাউবোর না।

০ টি মন্তব্য 10 ভিউ 8 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
print news | টাঙ্গুয়ার নজর খালী বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকছে।৮২ গ্রামবাসীর বাঁধ নির্মাণের দাবী পাউবোর না। | সমবানী

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় প্রতি বছর সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হয়। এর মধ্যে অনেক বাঁধ অপ্রয়োজনীয় হয় নানা তদবিরের জোরে। কিন্ত তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ নির্মাণ হয়না কোন বছরই। ফলে এলাকাবাসীর ক্ষোভ পাউবোর ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ৮২ গ্রামবাসীর দাবী এখানে বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন কারণ এখানে ও ফসলী জমি রয়েছে।

কিন্ত পাউবো ও প্রশাসনের দাবী এখানে বাঁধ নির্মাণের কোন প্রয়োজন নেই। কারণ টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট। যার ফলে প্রতি বছর হাওরে পানি ঢুকলে ধর্ম পাশা,মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার ৮২ গ্রামের মানুষ মিলে নিজেরাই বাঁধ নির্মাণ করেন তাদের ফসল রক্ষার জন‍্য।

এবার ও গত কদিনের টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে নজরখালি বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মঙ্গলবার ভোর থেকে বাঁধের অরক্ষিত অংশ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বজলু মিয়া বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার ভোর থেকে নজরখালি বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকাভুক্ত না হওয়ায় নজরখালি বাঁধ নিয়ে এবারও স্থানীয়দের উদ্বেগ বেড়েছে। বরাবরের মতো কৃষকরাই বাঁধ রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিন উপজেলার ৮২টি গ্রামের কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে নজরখালি বাঁধ সংস্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টাঙ্গুয়ার হাওরসংলগ্ন উত্তর বংশীকুন্ডা ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের পুরো অংশ এবং তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের একাংশ এই হাওরের অন্তর্ভুক্ত। এ চার ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হয়।

নজরখালি বাঁধের আওতায় রয়েছে সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্তারখলা ও বাগমারা হাওর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নজরখালি বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত করার দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই কৃষকদের নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ মেরামতের কাজ করতে হয়।

রুপনগর গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের জমিতে উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের অনেক কৃষকের জমি রয়েছে। হাওরটি রামসার সাইট হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণে কাজ করে না। তাই ফসল রক্ষায় কৃষকদেরই উদ্যোগ নিতে হয়।

তিনি জানান, প্রতি কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমির জন্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই অর্থ দিয়েই বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের কাজ করেন। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও নজরখালি বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, নজরখালি বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত নয়। তাই তাদের পক্ষে এই বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading