চুরি করতে গিয়ে ধরা মুক্তি পেয়ে মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করল গ্রামবাসীকে
প্রতিনিধিঃ
নিজস্ব প্রতিবেদক
চোরের অত্যাচার থেকে বাঁচতে এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে চুরির ঘটনায় সিরাজ (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে আটকের পর বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী।
আটক করায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন চুরিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী বিবি মরিয়ম। মামলা থেকে বাঁচতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে গ্রামের লোকজন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে ওই গ্রামের একটি ঘরে চুরি করতে গেলে পাহারা দেওয়া ব্যক্তিরা সিরাজকে ধরে ফেলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে চোর সিরাজ ওরফে সিরাজ বাহিনীর লিডার হিসেবে পরিচিত।
ওই দিন ধরা পড়ার পর সিরাজকে গাছে বেঁধে পিটুনি দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ‘আর চুরি করবেন না’ মর্মে মুচলেকা দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়ে দেওয়ার পরে সিরাজের স্ত্রী বিবি মরিয়ম (৩২) বাদী হয়ে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন। মামলার আসামীরা হলেন নুর ইসলামের ছেলে এরশাদ,মৃত শামছল হক ছেলে ফরিদ উদ্দিন, মোঃ আক্তার, মোশারেফ, মোঃ কামরুল। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
এ ঘটনায় বুধবার ২৮ জানুয়ারি বিকালে সাতবাড়িয়ার রাস্তার মোড়ে মানববন্ধন করেন গ্রামের অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। সফিক এর স্ত্রী শাহানাজ জানান, ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত্রে আমার ঘরের জানালার কেটে ঘরে ডোকার চেষ্টা করলে আমার ঘরের ভাড়াটিয়া আক্তার তাকে হাতে নাতে ধরে ফেলে।
চোর চোর বলে চিৎকার দিলে এলাকার লোকজন চলে আসে সবাই বলতে থাকে এতো আগের সিরাজ চোরা। সফিক এর মা বলেন, আমরা ছেলে এখানে ঘর করার পর থেকে চোরের যন্ত্রণায় থাকতে পারছি না। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, ‘সিরাজ এলাকার চিহ্নিত চোর।
সে একাধিকবার চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে। ওই সময় আর চুরি করবে না—এই মর্মে স্থানীয়দের কাছে স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়েছে তিন থেকে চারবার, কিন্তু ফায়দা হয়নি, বরং ওর চুরি ধরলে উল্টো হুমকি দেয় মামলা দেয়। আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না আর এখন গ্রেপ্তারের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছি না। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, আমাদের এই চোরের হাত থেকে রক্ষা করেন।’
পক্ষিয়া ৭ নং ওয়ার্ড গ্রাম পুলিশ মোঃ মফিজল জানান, সফিক এর ঘরে চুরি করতে আসছে চোর তারা বাধিয়া রাখছে। আমাকে খবর দিলে আমি রাত্রে সাথে আসি। এসে দেখি আলাউদ্দিগো বাড়ির সিরাজ। ওর সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। এই বলে আমি চলে যাই। সকাল বেলা সাতবাড়িয়া মসজিদের সামনে থেকে বোরহানগঞ্জ বাজারের ব্যবসাই সিরাজ এর নানা আবদুল মালেক এর জিম্মায় সুস্থ্য শরীরে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে আবদুল মালেক জানায়, আমার নাতি সিরাজ চুরির সাথে জড়িত না। সফিক এর ঘরের পাশে সিরাজ এর জমি আছে। সে দেখা শোনা করতে গেলে এলাকার লোকজন তাকে আটক করে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রা প্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
