শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনপুরায় ভোগদখলীয় জমি দখলের অপচেষ্টা ও ভুয়া ওয়ারিশ সনদের অভিযোগ

০ টি মন্তব্য 19 ভিউ 8 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
print news | মনপুরায় ভোগদখলীয় জমি দখলের অপচেষ্টা ও ভুয়া ওয়ারিশ সনদের অভিযোগ | সমবানী

ভোলার মনপুরা উপজেলায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তথ্য গোপন করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করে জমি দখলের অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী আবু তাহেরের ছেলে মামুনুর রশিদ জানান, তার বাবা ১৯৮৭ সালে তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদেক (পিতা: নুরুল হক) এর কাছ থেকে মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর গোয়ালিয়া মৌজার ১০৭৪ খতিয়ানের এক একর ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই জমি তারা প্রায় ৩৮ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালে সাদেক (পিতা: ছমেদ) এর সন্তান তানভীর গংরা পিতার নাম পরিবর্তন করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করে জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা শুরু করে।
“এই জমিতে আমরা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছি। অথচ তানভীর গংরা বিভিন্ন সময় এসে হুমকি দিয়ে আমাদের আতঙ্কের মধ্যে রাখছে,”—বলেন মামুনুর রশিদ।

আবু তাহেরের স্ত্রী মমতাজ বেগম(৫০)জানান, “আমার বিয়ের আগেই আমার স্বামী এই জমি কিনেছিলেন। প্রথমে ইসমাইল নামের একজন জমি দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে সে তানভীরকে যুক্ত করে। ইউনিয়ন পরিষদে শালিস বসলে আমার ছেলেদের মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। এখনো সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

“আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই,”—বলেন তিনি।
জমির চাষি আইয়ুব আলী জানান, তিনি নিজে ১৮ বছর তার বাবা নুরুজ্জামান ১০ বছর ধরে ওই জমি চাষ করে আসছেন।

“এর আগেও সিদ্দিক নামের একজন এই জমি চাষ করতেন। আমরা সবাই জমির ফসলের হিসাব আবু তাহেরকে দিতাম। হঠাৎ করে গত ৫ আগস্টের পর তানভীর গংরা আমার রোপণ করা ধানে সার ছিটিয়ে নষ্ট করে দেয় এবং নিজেদের জমি দাবি করে আমাদের নামে মামলা দেয়,”—বলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, “আমরা এখানে ৪৩ বছর ধরে বসবাস করছি। কমপক্ষে ৩৮ বছর ধরে দেখছি এই জমি আবু তাহের ভোগদখলে রেখেছেন। এখন তানভীর প্রভাবশালী নেতাদের ব্যবহার করে পরিবারটিকে হয়রানি করছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি দুই বছর জমি চাষ করেছি, এখন এই জমির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরাও একসময় মালিক ছিলাম। এখন তানভীর পাবে, তাই তারাই মামলা করছে।”

এদিকে অভিযুক্ত তানভীরের বক্তব্য জানতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনপুরা হাজিরহাটে অবস্থিত ‘নুর মেডিকেল হল’-এ গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে অন্য স্থানে অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading