দুমকিতে সমন্বিত সবজি চাষে সফল শিক্ষার্থী মাঈনুল ইসলাম
প্রতিনিধিঃ
জাহিদুল ইসলাম, দুমকি (পটুয়াখালী)
পড়াশুনার পাশাপাশি সমন্বিত সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আঃ সালাম মৃধার ছেলে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র মোঃ মাঈনুল ইসলাম। বাবার অনাবাদিত পতিত জমিতে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন জাতের শাক সবজির বাগান ও সমন্বিত মাছের খামার। ৪বছর পূর্বে মাত্র ৩৩শতাংশ জমিতে পুকুর ও মাদা তৈরি করে শুরু করেন বিভিন্ন জাতের শাকসবজি ও পুকুরে হরেক রকমের মাছ চাষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাইনুলের খামারে আগাম জাতের টমেটো,বেগুন, বিটরুট, পেঁপে, ঘৃত কুমারি বোম্বাই মরিচ, পুঁই শাক, মটরশুটি, ধনিয়া, বাঁধা কপিসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল শোভা পাচ্ছে। অপরদিকে পুকুরে চাষ করেছে, রুই, কাতল, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প গ্রাসকার্প, ফলি, পুঁটি ও ব্লাককার্প মাছ।
চলতি রবি মৌসুমে তিনি উচ্চ ফলনশীল এমটি -১২০২০ ও সুপার জাতের টমেটো মাচাং পদ্ধতিতে চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে প্রতিটি গাছে ১০/১৫ কেজি ফলন ধরেছে। খামারের চারপাশে সারি সারি দেশি জাতের তাল বেগুন ও সাদা বেগুন। প্রতিটি বেগুনের ওজন গড়ে ৫’শ থেকে ৮’শ গ্রাম। বাঁধা কপির সারি গুলো দেখতে বেশ ভালো লাগে। প্রতিটি পেঁপে গাছে প্রচুর পরিমাণে ফলন হয়েছে। এক একটি পেঁপের ওজন গড়ে ৩/৪কেজি। ইতিমধ্যে ইস্পাহানী কিং, রেড লেডি, শাহী ও বাবু জাতের পেঁপে গাছ থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। এছাড়াও অন্যান্য সবজি চাষ করে এক লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করেছেন।
মাঈনুল ইসলাম সংবাদ’কে বলেন, আমি পড়াশোনার পাশাপাশি সমন্বিত সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছি। বাবার কৃষি কাজে সাহায্য করতে গিয়ে আস্তে আস্তে কৃষিতে ঝুঁকে পরি। বাবার অনুপ্রেরণা ও কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আজ আমি একজন সফল খামারি। তিনি আরো জানান, বর্তমানে শাক সবজির ভালো দাম পাওয়ায় বেশ লাভবান হচ্ছি। আশা করি চলতি মৌসুমে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা আয় হবে।
কৃষি কাজে স্বল্প পুঁজিতে এবং অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে আরো ১৫ শতাংশ জমি সবজি চাষের জন্য মাদা তৈরি করছি। মাইনুলের বাবা আ: সালাম মৃধা বলেন, একসময় সংসারের ব্যয়ভার বহন, ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ মেটাতে খুব কষ্ট হতো। ছেলে মাইনুলের নিরলস প্রচেষ্টায় সমন্বিত সবজি, মাছ, কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে বাজার জাত করনের ফলে বেশ লাভবান হচ্ছি। এখন আর সংসারে সংসারে কোন অভাব নেই।
পাশ্ববর্তী এলাকার সোহরাফ মৃধা জানান, মাইনুলের কাছ থেকে পেঁপে, বিভিন্ন জাতের বেগুন, টমেটো ও মরিচ চারা সুলভ মূল্যে ক্রয় করে নিজের ক্ষেতে রোপন করেছি। একই গ্রামের মাদ্রাসার অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক কারী কেরামত আলী জানান মাইনুলের দেখাদেখি আমরাও কৃষি কাজ করে লাভবান হচ্ছি।
আঃ খালেক হাওলাদার জানান, মাইনুলের খামার দেখে মুরাদিয়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন নতুন কৃষি খামার করে অনেকেই লাভবান হচ্ছে।
এব্যাপারে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন জানান, মাঈনুলের খামারে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ দিয়েছি। অর্থনৈতিক ভাবে মাঈনুল পড়াশুনার পাশাপাশি সমন্বিত সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
