রবিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাউখালীর শহর থেকে গ্রামে অনলাইন জুয়ার বেপরোয়া ফাঁদে কোটি টাকা নিয়ে উধাও মোবাইল অ্যাপ কোম্পানি

০ টি মন্তব্য 5 ভিউ 13 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী, পিরোজপুর।
print news | কাউখালীর শহর থেকে গ্রামে অনলাইন জুয়ার বেপরোয়া ফাঁদে কোটি টাকা নিয়ে উধাও মোবাইল অ্যাপ কোম্পানি | সমবানী

অনলাইন প্রতারণা জুয়ার ফাঁদে পড়ে পিরোজপুরের কাউখালীতে প্রায় ৫ শতাধিক ব্যক্তির কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও অবৈধ মোবাইল অ্যাপ কোম্পানি। কোন কাজ না করে শুধু মোবাইলে ১০ মিনিট বিজ্ঞাপন দেখে প্রতিদিন শত-শত টাকা আয় করার লোভ দেখিয়ে উপজেলার সাধারণ মানুষের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এসটিএলএস ও এসএ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান দুটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম মডেলে ব্যবসা করতো।

অবৈধ ও বিটিআরসি অননুমোদিত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে চলছে রমরমা জুয়ার বাণিজ্য। সকাল দুপুর কিংবা মধ্যরাতে মোবাইল ফোনে চলছে জুয়ার আসর। দেখে বোঝার উপায় নেই হাতে থাকা মোবাইল ফোনেই অপরাধ জগতের এক ভয়াল জগতে নিমজ্জিত তরুণ-যুবকরা। হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন দিয়ে অখ্যাত অ্যাপের মাধ্যমে চলছে অবৈধ পথে অবৈধ অর্থ লেনদেন।

এসব চাঞ্চল্যকর অনলাইন জুয়ার আসর শহর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। বিভিন্ন সময় কাউখালী থানা পুলিশ কিশোর গাংদের আটক করলে অবৈধ অনলাইন জুয়া, গেম এর বিষয় টনক নড়ে প্রশাসনের। এ নিয়ে সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে বেড়েছে শঙ্কা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

কোন কাজ না করে শুধু মোবাইলে ১০ মিনিট বিজ্ঞাপন দেখে প্রতিদিন শত-শত টাকা আয় করার লোভ দেখিয়ে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সাধারণ মানুষের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এসটিএলএস ও এসএ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান দুটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম মডেলে ব্যবসা করতো।

অ্যাপের মাধ্যমে এসটিএলএস ও এসএ প্রতিষ্ঠান দুটিতে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক – শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধিসহ ৫ শতাধিক সাধারণ মানুষ বিনিয়োগ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠান দুটি প্রথমে এলাকার কয়েক জনকে বেতনে নিয়োগ দিয়ে তাদের মধ্যে গ্রাহক সংগ্রহ করে। তাদের টার্গেট পূরণ হয়ে যাওয়ার গত ১৫ দিন ধরে উধাও হয়ে যায় এসটিএলএস ও এসএ প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ। একরাতেই সর্বশান্ত হয়ে যায় উপজেলার ৫ শতাধিক মানুষ।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সূত্রে জানাযায়, বিদেশী এই অনলাইন বিনিয়োগের প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠান দুটির অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে ১৬ শত থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারতেন গ্রাহকরা।

এসটিএলএস এর যেসব গ্রাহক ২২ শত টাকা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতেন তারা প্রতিদিন ৫ টি ভিডিও বিজ্ঞাপণ দেখে ৭৫ টাকা, ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগে ১০টি ভিডিও দেখে ৩৭৫ টাকা, ৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ১৫ টি ভিডিও দেখে ১২৭৫ টাকা আয় করতেন।

একই ভাবে এসএ অ্যাপে ১৬ শত টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলে প্রতিদিন ১০টি বিজ্ঞাপন ভিডিও দেখে ৫৫ টাকা, ৮৭০০ টাকায় ২০টি ভিডিও দেখে ৩২০ টাকা, ২৯৭০০ টাকায় ৩০ টি ভিডিও দেখে ১১২০ টাকা আয় করতেন।এছাড়া যদি কোন গ্রাহক ২০ জন ব্যক্তিকে কোম্পানিতে যুক্ত করেন তা হলে ওই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে প্রতি মাসে অন্তত ১২ হাজার টাকা করে বেতন পাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদেরকে একটি নিয়োগ পত্র দেন প্রতিষ্ঠানটি।

এভাবে যে যত বেশি গ্রাহক তৈরি করতে পারবেন তার বেতন তত বেশি হবে। কাউখালীতে এসটিএলএস নামের প্রতিষ্ঠানে সর্বচ্চ গ্রাহক যুক্ত করে সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ পান উপজেলার আমরাজুড়ি এলাকার আল আমিন। তার নির্ধারিত বেতন ছিল মাসে ৭৫ হাজার টাকা।

এছাড়াও তিনি প্রতি গ্রাহকের আয় থেকেও একটা কমিশন পেতেন। এই আল আমিনের স্ত্রী পিংকিও ছিলেন একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী। মুলত এরাই প্রথমে কাউখালীর সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন অ্যাপে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধকরেন। আল আমিন ছাড়াও এসটিএলএস কোম্পানিতে ১০০ জন এবিসি কর্মচারী নিয়োগ করে মোঃ সাইমুন ইন্টার্ন সুপারভাইজার পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে মাসে ২৫ হাজার টাকা, তুহিন আলম ও সামিয়া ২০ জন করে গ্রাহক সংগ্রহ করে টিম লিডার পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে মাসে ১২ হাজার টাকা বেতনে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন বলে জানাযায়।

এদের মতন উপজেলায় ১৫/২০ জনকে বেতন ভুক্ত কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন প্রতিষ্ঠান দুটি। এরা গ্রাহকদের লোভের ফাঁদে ফেলে অ্যাপটি প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত নিয়ে পৌঁছে যায়।

তাদের ফাঁদে পড়ে উপজেলার শিক্ষক – শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সরকারি – বেসরকারি কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, দিনমজুর সহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ বিনিয়োগ করেন। কোম্পানি দুটির তাদের টার্গেট পূরণ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায়।এসটিএলএস কোম্পানির বেতন ভুক্ত সুপারভাইজার কাউখালীর মূল অপরাধী আল আমিন ও তার স্ত্রী পিংকি কোম্পানিটি উধাও হয়ে যাওয়ার পর থেকে এলাকা থেকে পালিয়ে অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

সুশীল সমাজ বলছেন মানুষের অতিলোভ আর প্রশাসনের নজরদারি কম থাকার কারণেই এসব ঘটছে।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান জানান, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে শুনেছি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading