হিলিতে ওএমএসের চাল নিতে দীর্ঘ লাইন স্বল্প মূল্য চাল কিনত পেরে খুশি নিন্ম আয়ের মানুষরা
প্রতিনিধিঃ
গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি, দিনাজপুর
সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি পৌরসভায় ওপেন সেলস মার্কেট (ওএমএস) ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে দীর্ঘ লাইন। স্বল্প মূল্য চাল কিনতে পেরে খুশি পৌরসভার নিম্ন-আয়ের মানুষেরা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে বাকি ৫ দিন প্রতিদিন সকাল থেকে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র জমা দিয়ে প্রতি জন ৫ কেজি করে চাল কিনছেন। এতে তারা নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
সেই সাথে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান ডিলাররা। হাকিমপুর হিলি পৌরসভার জন্য দুটি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি ) সরজমিনে হিলি বন্দরের চারমাথা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধ হয়ে দুইটি লাইনে নারী ও পুরুষ ক্রেতা দাঁড়িয়ে আছে। সবার হাতে বাজারের ব্যাগ।
চাল কিনতে আসা সবার চোখে মুখে আনন্দের ছাপ।
হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড়ের ডিলার মুক্তিযুদ্ধা মোঃ লিয়াকত আলী এর পয়েন্টে ওএমএসের চাল কিনতে আসা পৌর সভার ৪নং ওয়ার্ডের এক যুবক বলেন, বাজারে চালের দাম বেশি।
আমি যা আয় করি তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালায়। চাল কিনতে যদি সব যায় তাহলে কেমনে চলবো। তাই সকাল সকাল এসে চাল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পেরে আমি খুব খুশি। সেই সাথে সরকারের এই সিদ্ধান্ত কে সাদুবাদ জানাই।
একই পয়েন্টে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের চাল কিনতে আসা ৫০ উর্ধো ময়মনা বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ বাজারে ৫ কেজি চাল কিনতে গেলে প্রায় ২৫০-৩০০ টাকা লাগে। আর এখানে ৫ কেজি চাল কিনলাম মাত্র ১৫০ টাকায়। আবার এখানকার চাল ও অনেক ভালো।
আরেক ক্রেতা মোছাঃ জান্নাতুন বেগম বলেন, বাজারের চেয়ে খোলাবাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে কিনতে পারছি। সরকার যদি সারা বছর খোলাবাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি চালু রাখতো। তাহলে আমাদের মতো নিন্মআয়ের মানুষের জন্য অনেক ভালো হতো।
হাকিমপুর হিলি পৌরসভার নিয়োগ পাওয়া ওএমএস ডিলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ লিয়াকত আলীর প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের হাকিমপুর হিলি পৌরসভায় দুটি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি বাদে বাকি ৫ দিন গত ১৬ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন বিক্রি করছি ১০০০ কেজি করে দুটি পয়েন্টে ২ হাজার কেজি।
চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২ ফেব্রুয়ারী থেকে আমরা হাকিমপুর পৌরসভা এলাকায় দু’টি কেন্দ্রে প্রতিদিন দেড় মেট্রিক টন করে দুটি পয়েন্টে ৩ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করছি। প্রতিজন ক্রেতা জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ৫ কেজি করে চাল কিনতে পারছেন।
এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছাঃ খালেদা বানু বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক গত ১৬ জানুয়ারি থেকে দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌরসভা এলাকায় দুটি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুটি ডিলারদের মাধ্যমে সপ্তাহের ৫ দিন প্রথমে ১ টন করে ২ টন চাল বিক্রি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে চাহিদা বাড়ায় ২ ফেব্রুয়ারী থেকে দেড় টন করে দু’টি কেন্দ্রে ৩ টন করে প্রতিদিন চাল বিক্রি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাকিমপুর পৌর সভার প্রতিজন ব্যক্তি জাতীয় পরিচয় পত্র জমা দিয়ে প্রতিদিন ৩০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি দরে চাল কিনতে পারবেন। ছুটির দিন ছাড়া সপ্তাহে ৫ দিন খোলাবাজারে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালু থাকবে। এই কর্মসূচি উপজেলাই নয় শুধু হাকিমপুর পৌর এলাকায় চালু আছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
