শিক্ষক সংকটে কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
প্রতিনিধিঃ
রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী, পিরোজপুর।
পিরোজপুরের কাউখালীর অন্যতম দুই শীর্ষ বিদ্যাপীঠ কাউখালী সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং কাউখালী সরকারি এস বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত পাঠদান প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় প্রতিষ্ঠানেই অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় স্থায়ী শিক্ষকের অভাব সবচেয়ে বেশি।সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ১১জন শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ ও শ্রেণি কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। ১৭টি পদের মধ্যে মাত্র ৬ জন শিক্ষক রয়েছে। ইংরেজি, গণিত, বাংলা সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এছাড়া অফিস সহকারী সহ ৪ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়তে বর্তমানে ৩১৫ জন ছাত্র রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ আমিনুর রহমান। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা শিক্ষক না থাকায় তারা মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোনমতে জোড়া তালি দিয়ে ক্লাস চলছে। প্রশাসনিক কাজের ফাঁকেও আমি দৈনিক ৬ টি ক্লাস নিচ্ছি। শিক্ষক সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো সত্বেও কোন ফলাফল পায়নি।এদিকে কাউখালী সরকারি এসবি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও একই অবস্থা বিরাজমান।
বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ১৭টি পদের মধ্যে মাত্র ৭ জন শিক্ষক রয়েছে। প্রধান শিক্ষক ১০জন শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অফিস সহকারি সহ ৪জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদ শূন্য রয়েছে। গণিত, জীববিজ্ঞান, ব্যবসায়ী শিক্ষা সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক নেই। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্রীর সংখ্যা রয়েছে ৪৫৬ জন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আখতার হোসেন হাওলাদার জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে অতি কষ্টে কোন মতে ক্লাস চালিয়ে নিচ্ছি।
আমি প্রশাসনিক কাজের ফাঁকেও দৈনিক ৬ টি ক্লাস নিচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো সত্বেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় শিক্ষক পাওয়া যায়নি।একাধিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। অনেক বিষয়ের মৌলিক পাঠ তারা শ্রেণিকক্ষে পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেককে চড়া মূল্যে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অভিভাবকদের মতে, প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারি হওয়ার পর থেকে মানসম্মত শিক্ষার আশা থাকলেও শিক্ষক সংকটের কারণে তা পূরণ হচ্ছে না। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ বা বদলি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই শূন্যতা পূরণ না করলে এলাকার মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে।
এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাছাড়া আমি জেলা প্রশাসক মহোদয় ও স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর স্যারকে অবহিত করেছি। আশা করা যায় সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
