শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপা পৌরসভায় ভিজিএফ-এর চাল বিতরণে অনিয়ম।

০ টি মন্তব্য 26 ভিউ 7 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

মোস্তফা কামাল খান (গলাচিপা)
print news | গলাচিপা পৌরসভায় ভিজিএফ-এর চাল বিতরণে অনিয়ম। | সমবানী

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভা কার্যালয়ে ভিজিএফ (ভিজিডি/ভিজিএফ) কার্ডের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ডধারী প্রতি ব্যক্তির ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে মিলছে ৮ থেকে ৯ কেজি। কোথাও কোথাও এর চেয়েও কম চাল দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওজনে কম দেওয়া এবং প্রকৃত হকদারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে গলাচিপা পৌরসভা কার্যালয়ে চাল বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দুস্থ ও অসহায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে চাল নিয়ে ফেরার সময় অনেকের মুখেই ছিল বিষণ্নতার ছাপ। ডিজিটাল স্কেলে মেপে দেখা গেছে, অধিকাংশ কার্ডধারী ১০ কেজির পরিবর্তে ৮ কেজি, সাড়ে ৮ কেজি কিংবা সর্বোচ্চ ৯ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। ওজনে কেন কম দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বিতরণ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বিতরণে নিয়োজিত পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কি করব? খাদ্য গুদাম থেকে যে বস্তা দেওয়া হয়েছে, তাতেই চাল কম। প্রতিটি বস্তায় গড়ে দেড় থেকে দুই কেজি চাল কম পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের ওপর যে দায় চাপানো হচ্ছে তা সঠিক নয়।”

অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়োজিত কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি দায় চাপান খাদ্য গুদামের ওপর। তিনি বলেন, “খাদ্য গুদাম থেকে আমাদের বস্তা হিসেবে চাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়, মেপে দেওয়া হয় না। গুদাম থেকে কম দিলে আমাদের করার কিছু থাকে না।” তবে বস্তায় চাল কম থাকলে কেন তা গ্রহণ করা হলো—এমন প্রশ্নের কোনো পরিষ্কার জবাব মেলেনি তার কাছ থেকে।

চাল ওজনে কম দেওয়ার পাশাপাশি কার্ড বিতরণ নিয়েও উঠেছে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর যারা নিয়মিত এই সহায়তা পেতেন, এবার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে সচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুসারীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কার্ডের আশায় অনেক অসহায় মানুষ দিনভর কার্যালয়ের সামনে ভিড় করলেও শূন্য হাতে ফিরতে দেখা গেছে তাদের।

ভুক্তভোগী এক বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, “বাবা, সরকার তো ১০ কেজি দেছে, আমাগো কেন ৮ কেজি দেবে? হেরা কি আমাগো পেটের ভাতও কাইড়া নেবে?”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading