আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কৃষকরা ধানের দাম ন্যায্য মূল্য পায়নি ?
প্রতিনিধিঃ
মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার
খাদ্যপণ্যের জোগান নিশ্চিতের মূল কারিগর যারা, তারা কি পরিশ্রমের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন? পেলেও তা কতটুকু? মৌলভীবাজার জেলা ও উপজেলায় হাওরে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে, ধানের দাম ন্যায্য মূল্য পায়নি। আমরা বিগত বছরগুলোতে বলেছি এবং এখনো বলছি কৃষক বাঁচান। উৎপাদন করে ন্যায্যমূল না পেলে আগামীতে ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারাবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষিসংশ্লিষ্টরা।
মৌলভীবাজার জেলাতে ধান কাটা, মাড়াই আর শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। কৃষকরা যে ধান ৯০০-১০০০ টাকা মন দরে বিক্রি করে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। কিন্তু বাজারে গিয়ে কৃষকের সেই হাসিমাখা আর থাকছে না। কারণ, বাজারে ধানের দাম কম।
হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাওরের বুকে ধান আর ধান। যে দিকে দু-চোখ যায় শুধু পাকা ধানের সমাহার। মিষ্টি রোদের হালকা বাতাসে দুল খাচ্ছে কৃষকদের সোনার ফসল। বিস্তৃর্ণ মাঠের সোনালি ফসল কৃষকেরা কাচি হাতে কাঁটতে শুরু করেছেন। তাইতো কাল বিলম্ব না করে ধান কাঁটা ও মাড়াইয়ের পর শুকানো, সেই সাথে তা ঘরে উঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাওরের কৃষাণ-কৃষাণীরা। এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, এ বছর জেলায় চলতি মৌসুমে ৬২ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হেক্টর এর বেশি। এর মধ্যে শুধু হাওরেই ২৭ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। নন হাওর ৩৪ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে গুরু আবাদ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে।
কৃষকরা জানান,সব জিনিসের দাম বাড়তি, শুধু ধানের দামই কম। আমি প্রায় ৪ কেয়ার জমিতে ধান করছি,প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মন ধান হবে। আমার খরচ গিয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ধানের মূল্য ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা হলে আমরা জমিতে যে খরচ করি, তা আমরা লাভবান হতে পারব। বর্তমানে আমরা কৃষকরা কৃষি অফিস থেকে কোন কিছু আসলে সেটা অন্যরা পেয়ে যায়। এবার নতুন আমাদের সরকার এসেছে আমরা অনেক খুশি হয়েছি এবার যদি দানের দামটা একটু বেশি বাড়ানো হয় তাহলে আমরা কৃষকরা বাঁচতে পারব,দেশ বাঁচবে।
কৃষক জামাল মিয়ার বলেন আওয়ামী লীগ সরকার ১৬ বছর ক্ষমতায় রয়েছে, আমরা কৃষকরা ধানের দাম ন্যায্য মূল্য পায়নি। এবার নতুন আমাদের সরকার এসেছে আমরা অনেক খুশি হয়েছি। এবার যদি ধানের দামটা একটু বেশি বাড়ানো হয় তাহলে আমরা কৃষকরা বাঁচতে পারব।
কাউয়াদিঘী হাওর কষক তোফাজ্জল বলেন ১৬ বছর ধরে ধানের দাম বাড়বে শুনতেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত দাম বাড়েনি। সারের দামও বেশি এবং বীজের দামও বেশি। আমাদের কৃষি অফিস থেকে বীজ এবং অনেক কিছু দেওয়ার কথা ছিল আমাদের সেই কৃষি অফিস থেকে দেওয়া হয়নি। সরকারি চাকরি করে কি লাভ, আমরা কৃষকরা মরে গেলে। আমরা অনেক টাকা ঋণ করে বোরো ধান করেছি। আগামী বছর আমি ধান চাষ কম করব।
মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন কৃষকরা মাঝে মধ্যে একটি প্রশ্ন করে ধানের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। এটা অনেকটা সত্যি কারণ হয়েছে ওরা মৌসুমে ধান বিক্রি করে। বিশেষ করে কৃষকরা দায়বদ্ধ থাকে। মানুষদের কাছে তড়িঘড়ি করে ধান কম দাম বিক্রি করে। এটা আমি মনে করি বাজার মূল্যের সাথে সম্প্রীতি নেই।
কৃষক অনেকেই থাকে আমাদের সহকারী হিসাবে সেবা মনে থাকে না হয়তো বা কোথাও ঘাটতি থাকতেই পারে। অনেক কৃষকরা আমাদের সেবা পায়, আবার অনেক কৃষকরা সেবা পায় না। আমরা আশা করছি পর্যায়ক্রমে সেবা ও প্রণোদনা পাবে। এর মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশে ধান কাটা শেষ করে ফেলেছে।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
