শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় দফা সময় বৃদ্ধি করেও হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

০ টি মন্তব্য 12 ভিউ 9 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
print news | দ্বিতীয় দফা সময় বৃদ্ধি করেও হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। | সমবানী

সুনামগঞ্জ জেলার চলমান হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় হাওর পাড়ের কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় দফা সময় বৃদ্ধি করে ও শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়নি।
এ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন বিচ্ছিন্ন ভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। সংগঠন গুলো হুশিয়ারী দিয়েছেন রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলনের।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে ৭০ শতাংশ কাজ হয়েছে বলে জন সাধারণের দাবী । অপর দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবী ৮৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সময়মতো অর্থ ছাড়, ঢিমেতালে চলা কাজ আর দুর্নীতির অভিযোগে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জেলার প্রধান বোরো ফসল।

এ বছর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১৮টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। অনেক এলাকায় এখনো মাটির কাজই শেষ হয়নি, কোথাও কোথাও কেবল ঘাস লাগানোর নামে বরাদ্দ লোপাটের পাঁয়তারা চলছে।

২০১৭ সালের ভয়াবহ মহাবিপর্যয়ের স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি হাওরবাসী। সেবার বাঁধ ভেঙে শতভাগ ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। খরচার হাওরপারের কৃষক আবুল কাসেম (৬৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০১৭ সালে বাঁধের দুর্নীতি আর অবহেলার কারণে আমরা না খেয়ে মরেছিলাম। গরু-ছাগলও মরেছে ঘাসের অভাবে। ২০২৬ সালেও যদি সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে আমরা প্রশাসনের দুয়ারে গিয়ে হাহাকার করা ছাড়া আর পথ পাব না।”

​হাওর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) কাজের যে তথ্য দিচ্ছে, তার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।​ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনিয়ম ও গাফিলতি চরমে। পিআইসি গঠনের শুরু থেকেই অনিয়ম দুর্নীতির রেকর্ড ছাড়িয়েছে। কৃষকদের গোলায় ফসল উঠবে কি না তা নিয়ে কৃষক যেমন দুশ্চিন্তায় আমরা তাই।

হাওর ও নদী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন অভিযোগ করেন, “গত বছরের অক্ষত বাঁধগুলোতে নতুন বরাদ্দ দেখিয়ে ‘হরিলুট’ চলছে। প্রথম দফার আগাম বন্যাতেই এই নড়বড়ে বাঁধ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

সুজন সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন আবহাওয়ার যে অবস্থা এবং বাধেঁর কাজের যে অবস্থা ফসল তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

পরিবেশ কর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন সময়মতো অর্থ ছাড় না করা সহ বিভিন্ন কারণেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছেনা ।

কাজের ধীরগতির কারণ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার নির্বাচনের অজুহাত তুলে ধরে ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করিয়েছেন। তিনি দাবী করেন ৮৬ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে অর্থ ও খুব শীগ্রই দেয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রকৃতি কি সেই ১৫ দিন অপেক্ষা করবে? যেখানে মার্চ মাসেই আগাম বন্যার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে এই বর্ধিত সময় মূলত ব্যর্থতা ঢাকার কৌশল মাত্র।

​সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন এখন পর্যন্ত ৮৬ শতাংশ বাধেঁর কাজ সম্পন্ন হয়েছে দু একদিনের মধ্যেই অর্থ ছাড় হলে পিআইসিদের প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading