দুমকিতে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে বাড়ছে আবাদ: মাঠে মাঠে সূর্যমুখীর হাসি
প্রতিনিধিঃ
জাহিদুল ইসলাম, দুমকি (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মাঠে মাঠে এখন সূর্যমুখীর ঝলমলে হাসি। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে সোনালী ফুল। প্রতিটি হলুদ রঙের ফুল যৌবন জোয়ারে নিজেকে বিলিয়ে দিতে ব্যস্ত যেন প্রকৃতির মাঝে।
ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে পরিবেশ ও ফুল প্রেমীদের সূর্যমুখী ফুলের সাথে সেলফি তোলা। আর তাদের পথ চরনায় মুখর গ্রামীণ জনপদের সূর্যমুখীর ক্ষেতগুলো। তবে শুধু সৌন্দর্যই নয়, এই ফুল এখন কৃষকদের কাছে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের এক ভরসার নাম।
আবার কোন কোন ক্ষেতে আগাম জাতের সূর্যমুখী পরিপক্ক হতে শুরু করেছে।
ভোজ্যতেলের বর্তমান আকাশচুম্বী চাহিদা, কম খরচে চাষাবাদ ও অল্প সময়ে অধিক ফলন এই তিনটি মূল কারণে সূর্যমুখী চাষে দিন দিন ঝুঁকছে কৃষকরা। সূর্যমুখী বীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায়, তা অত্যন্ত মান-সম্পন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত। এতে রয়েছে ভিটামিন- এ, ও মেগা-৬, ফ্যাটি এসিড ও এন্টি অক্সিডেন্ট যা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ত্বকের জন্য উপকারী। রান্নার কাজে সহজে ব্যবহারযোগ্য এই তেল সহজপাচ্য হওয়ায় এখন ভোক্তাদের কাছেও চাহিদা সম্পন্ন হয়ে উঠেছে।
দুমকি উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সূর্যমুখী চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫১ হেক্টর। বাস্তবে চাষাবাদ হয়েছে ৫৫হেক্টর জমিতে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছড়িয়ে ছিটিয়ে সূর্যমুখী চাষ হলেও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের জামলা, দক্ষিণ শ্রীরামপুর, কোহারজোড়, উত্তর শ্রীরামপুর, রাজাখালী, চরবয়ড়া, লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারো গাছিয়া ও কার্তিকপাশায় সুর্যমূখীর বেশি চাষ হয়েছে। এছাড়াও আঙ্গারিয়া, পাঙ্গাশিয়া ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে সুর্যমূখী চাষাবাদ হয়েছে।
কলেজ শিক্ষার্থী বায়জিদ হোসেন বলেন, সুর্যমূখী ফুল দেখতে খুব সুন্দর। তাই ফুলের সাথে বিভিন্ন ভাবে ছবি তুলতে ক্ষেতে এসেছি। আমার মতো অনেকেই সুর্যমূখী ফুলের সাথে মিতালী করতে মাঠে এসে হরেক রকমের ছবি তুলছে।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মোঃ জসিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, শিক্ষাকতার পাশাপাশি পরিবারের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শ নিয়ে নিজের ২৪ শতাংশের ২টি প্লটে বারি-২ জাতের সূর্যমুখী চাষ করেছি। ইতিমধ্যে ক্ষেত হলুদ রঙের ফুলে ভরে গেছে।
আবার কিছু কিছু ফুল পরিপক্ক হতে চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মুরাদিয়ার কৃষক কালাম চৌকিদার বলেন, বরাবরের মতো এবারও হাইসান -৩৬ জাতের সূর্যমুখী চাষ করেছি। গাছে বেশ ভালো ফুল ফুটেছে। এক একটি ফুল ৮’শ থেকে ১কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে বিক্রি করা যাবে। এছাড়াও শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারব। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে উন্নত জাতের বীজ ও সার এবং পরামর্শ অনুযায়ী ক্ষেতের পরিচর্যা করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন বলেন, সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে তৈল হয় তা মানসম্পন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত। সূর্যমুখী থেকে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ, গো-খাদ্য হিসেবে খইল এবং শুকনো গাছ জ্বালানি সহ নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে উপজেলার কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। যার ফলে সুর্যমূখী চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে।
চলতি মৌসুমী কৃষি প্রোনোদনার আওতায় ৪’শ৫০জন কৃষক- কৃষানির মাঝে বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। আমিসহ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত সরেজমিনে সুর্যমূখী প্রদর্শনী প্লট তদারকি ও করনীয় বিষয় পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি আরো জানান আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কৃষকরা বেশ লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
