শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউখালীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনের নির্মাণ কাজ ১৬ বছরেও শেষ হয়নি, স্বাস্থ্য সেবায় বঞ্চিত কাউখালীবাসী

০ টি মন্তব্য 27 ভিউ 8 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী (পিরোজপুর)
print news | কাউখালীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনের নির্মাণ কাজ ১৬ বছরেও শেষ হয়নি, স্বাস্থ্য সেবায় বঞ্চিত কাউখালীবাসী | সমবানী

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবন নির্মাণ কাজ প্রথম দফায় টেন্ডার হওয়ার ১৬ বছর পরেও শুরু হয়নি ছয় তলা বিশিষ্ট হাসপাতালের মূল ভবনের নির্মাণ কাজ । কাজ ফেলে রাখায় অন্য ভবনগুলির ছাদের লক্ষ লক্ষ টাকার রডসহ নষ্ট হচ্ছে অন্যান্য মালামাল। অথচ ১৬ বছর আগে কাজ শুরু হলেও মূল ভবন নির্মাণ কাজ এখনো পড়ে আছে। অপর দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন ও ডাক্তার সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। জনবল সংকটে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ।

২ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা। ভবন সংকটের কারণে যোগদান করছে না কোন ডাক্তার। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বার বার ডাক্তারদের পদায়ন করলেও নানা অজুহাতে যোগদান করছেন না কেউ। উল্লেখ্য কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন ১৭ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০০৮ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর টেন্ডারের মাধ্যম বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস নূর ই এন্টার প্রাইজ কাজ শুরু করেছিল।

নানা অনিয়ম ফলে সামান্য কিছু কাজ করে বাকী কাজ ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত বিল উত্তোলন করে চলে যায়। পরবর্তী সময় ৫০ সয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রায় ২৬ কোটির টাকার বরাদ্দের কাজটি ২০২২ সনে মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ বরিশালের অনুকুলে এইচইডি কর্তৃপক্ষ কার্যাদেশ প্রদান করে এবং ২৩ শে জুন ২০২৩ নির্ধারণ করে কাজ শেষ করার আদেশ দেওয়া হয়।

অথচ ডাক্তার, নার্সদের আবাসিক ভবনের আংশিক কাজ করেন এবং হাসপাতালের মূল ভবনের কিছু পাইলিং পিলার তৈরি করে মোট কাজের মাত্র ১৬% কাজ করে ফেলে রাখেন বলে জানান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার হোসেন। পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ সমাপ্ত করার জন্য দফায় দফায় লিখিত ভাবে নোটিশ করলেও তারা কোন কর্ণপাত না করে কাজটি ফেলে রাখে। ভবন সংকটের ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। জনগনের চাপের মূখে ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ঠিকাদারের উপস্থিতিতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত করার জন্য সর্বশেষ সময় বেধে দেয়।

কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কোন কাজ না করায় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মহামন্য হাইকোর্টে ৮০% কাজ হওয়ার পর কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে মর্মে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে রীট দায়ের করেন।

যার ফলে সকল কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। হাই কোর্টের নির্দেশনা না আসায় বর্তমানে বিভিন্ন ভবনের ছাদের ঢালাই পূর্বের সেন্টারিং করা রডগুলো মরিচা পরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিকে নির্মান কাজের বিভিন্ন মালামল নষ্ট হচ্ছে, অপর দিকে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের বসার এবং থাকার ভবন সংকটের ফলে ডাক্তার এবং অন্যান্য কর্মচারীরা অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যাওয়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার হোসেন সত্যতা স্বীকার করে জানান, হাইকোর্টে শুনানীর জন্য দিন ধার্য আছে, আদালতের নিদের্শনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading