সমন্বয়ক পরিচয়ে লাঠি দিয়ে এসিল্যান্ড কে হামলার চেষ্টা : যৌথ বাহিনীর খাঁচায় সেই রুমি বন্দী
প্রতিনিধিঃ
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, সিলেট
৫ আগস্ট এর পরে সমন্বয়ক শব্দ টা ব্যবহার যেন এখন সকল স্তরে। কে আসল কে নকল সেটি বুঝে ওঠা খোদ প্রশাসনের পক্ষেই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ সাবেক এক যুবলীগ নেতা সমন্বয়ক পরিচয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রতিপক্ষের ভূমি দখল সর্বশেষ স্থানীয় উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি কে হামলা করার চেষ্টা ঘটনাটি এখন হবিগঞ্জের জেলার টক অফ দা টাউন।
জানা যায়, জেলার চুনারুঘাট উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এসিল্যান্ডের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বুধবার ভোরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি করা সমন্বয়ক ফরহাদ ইবনে রুমিকে উপজেলার উবাহাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
আটক ফরহাদ উপজেলার উবাহাটা এলাকার দিদার হোসেনের ছেলে বলে নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের নবাগত পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান। তিনি জানান তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ড,মো: ফরিদুর রহমান এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ কালে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার বিষয়ে সমন্বয় পরিচয় দেয়া সেই যুবলীগ নেতা ফরহাদ ইবনে রুমির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দেয়া হয়েছে কিনা তা জানতে চাইলে তিনি পাশ কাটিয়ে বলেন থানার ওসি তা বলতে পারবেন।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায় গত মঙ্গলবার উপজেলার নতুন ব্রিজ এলাকায় আদালতের আদেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুব আলম মাহবুব।
এ সময় সমন্বয়ক পরিচয় বহনকারী ফরহাদ সহকারী কমিশনারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।
এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে সহকারী কমিশনারের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার ভোরে শাহজিবাজার সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আরাফি তাজোয়ার আমিনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর একটি দল ফরহাদকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ফরহাদ ও তাঁর লোকজন উবাহাটা মৌজার খাস খতিয়ানে রাস্তা ও এক ব্যক্তির প্রায় ২০ ফুট জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেন। এ ঘটনায় ফরহাদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলায় দায়ের করেন বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি। ওই মামলায় সম্প্রতি অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বাবুল মিয়ার পক্ষে আদেশ প্রদান করেন। ওই আদেশের পর সহকারী কমিশনার ফরহাদের ভূমি উচ্ছেদ করতে গেলে তিনি বাধা দেন।
মামলার বাদী বাবুল মিয়া জানান, ফরহাদসহ তাঁর লোকজন এলাকার প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। তারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর জায়গাসহ রাস্তার জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে গেলে ফরহাদ তাদের ওপরও চড়াও হন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ফরহাদ এতদিন যুবলীগের পরিচয় দিলেও গত ৫ আগস্টের পর থেকে নিজেকে ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বলে দাবি করছেন।
চুনারুঘাট থানার (ওসি) নুর আলম জানান, সেনাবাহিনী ফরহাদকে আটকের পর থানায় হস্তান্তর করলে বাবুল মিয়ার দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। সরকারি কাজে বাধা দেয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আছে। এমনিতে উপজেলা প্রসারণের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
