শনিবার, ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গাবালীতে অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করতে অপকৌশলের অভিযোগ

০ টি মন্তব্য 24 ভিউ 8 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

মোঃ মনিরুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
print news | রাঙ্গাবালীতে অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করতে অপকৌশলের অভিযোগ | সমবানী

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ আবদুল ছাত্তার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করতে অপকৌশলের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি তুলেছেন উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং সাবেক সভাপতিদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি করাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করার অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অধ্যক্ষ রুহুল আমিন তার পুত্রবধূ রাবেয়া ইসলাম শাওরাকে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে এবং ছেলে রাকিব হোসেনকে কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দিয়েছেন। যারা দিনের পর দিন অনুপস্থিত থেকেও প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিজের এসব অপকর্ম আড়াল করতে সবশেষ গোপনে প্রতিষ্ঠানের একটি এডহক কমিটি করেন অধ্যক্ষ। এই কমিটিতে জসিম উদ্দিন নামের যে ব্যক্তিকে সভাপতি করা হয়-তিনি ছাত্র জীবনে এই প্রতিষ্ঠানেরই একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছিলেন। এ কারণে কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। গত ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় কমিটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি, যা বর্তমানেও চলমান। ইতোমধ্যে কমিটির একজন অভিভাবক ও একজন শিক্ষক প্রতিনিধি পদত্যাগ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, কমিটি বাতিলের দাবিতে করা প্রথম কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জেরে সভাপতি জসিম উদ্দিনের ছোট ভাই চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কে.এম. রিয়াজকে মারধরের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমিসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়।

গত ২০ জানুয়ারি গলাচিপা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জসিম উদ্দিন নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। শুধু তাই নয়-এরআগে গত ১৫ জানুয়ারি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন অধ্যক্ষ। একের পর এক আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। নিজের দোষ আড়াল করতে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার রটিয়ে ঘটনা অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টির অনুসন্ধানের দাবি জানান নজরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চরমোন্তাজ আবদুল ছাত্তার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রুহুল আমিন বলেন, ‘সরকারি বিধি মোতাবেক এডহক কমিটি করা হয়েছে। সেখানে আমার পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই। আর নজরুল ইসলামের পছন্দের লোক রিপন সভাপতি না হওয়ায় তার এত মাতামাতি।

সভাপতি অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। আর অপসারণ করার ক্ষমতাও বোর্ডের।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২০ সালের জুনে নিয়মতি কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। চার-পাঁচজন প্রার্থী ছিল। এরমধ্যে আমার পুত্রবধূ নিয়োগবোর্ডে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে কম্পিউটার অপারেটর অফিস সহকারী মর্যাদার পদে আমার ছেলে সর্বোচ্চ মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পেয়েছে। সকল তথ্য প্রমাণ আমার কাছে আছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর বলেন, ‘এডহক কমিটি বাতিল ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের চলমান কর্মসূচির কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি আমরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।’

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading