শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিডিআর বিদ্রোহে কর্নেল কাজী এমদাদ হত্যার ১৭ বছরেও ন্যায় বিচার পায়নি পরিবার

০ টি মন্তব্য 5 ভিউ 6 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার। কাউখালী, পিরোজপুর।
print news | বিডিআর বিদ্রোহে কর্নেল কাজী এমদাদ হত্যার ১৭ বছরেও ন্যায় বিচার পায়নি পরিবার | সমবানী

বিডিআর বিদ্রোহে নিহত হয়েছিল পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের শীর্ষা গ্রামের কৃতি সন্তান কর্নেল কাজী এমদাদ। হত্যার ১৭ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও ন্যায় বিচার পায়নি তার পরিবার।

২০০৯ সালে এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংগঠিত হয় নারকীয় হত্যাকাণ্ড। নারকীয় হত্যাকাণ্ডের আজ ১৭ বছর পূর্ণ হল। নারকীয় হত্যাকাণ্ডে শহীদ হন দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ প্যারাসুটার জঙ্গি দমনে সফল সেনা কর্মকর্তা পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের শীর্ষ গ্রামের কর্নেল কাজী এমদাদুল হক (পি.এস.সি)।

হত্যাকান্ডের ১৭ বছর হলেও কাউখালীবাসী আজও তাকে স্মরণ করে তার রুহের মারফত করেন।তার আত্মীয়-স্বজনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাকাণ্ডে জাতি হারিয়েছিল ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাকে। তাঁদেরই একজন ছিলেন তৎকালীন সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কাজী এমদাদুল হক।

বিডিআর বিদ্রোহের সেই কালো দিনে ঘাতকদের বুলেটে প্রাণ হারান এই দেশপ্রেমিক সৈনিক। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পিলখানার দরবার হলে যখন বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে দরবার চলছিল, তখনই বিদ্রোহের সূচনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কর্নেল কাজী এমদাদুল হক সেই সময় তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবিচল ছিলেন।

কিন্তু বিদ্রোহী সদস্যদের অতর্কিত আক্রমণ ও নির্মমতার শিকার হন তিনি। পরবর্তীকালে পিলখানার গণকবর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্নেল কাজী এমদাদুল হক ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান এবং জওয়ানদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় কর্মকর্তা। সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর সহকর্মীদের মতে, তিনি শুধু একজন দক্ষ অফিসারই ছিলেন না, বরং একজন মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। বিডিআরের শৃঙ্খলা ও আধুনিকায়নে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল।

কর্নেল এমদাদের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে আসে গভীর শোক। প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ করা হয়। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আদালত অনেক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

তবে নিহতের পরিবারগুলো আজও পূর্ণাঙ্গ বিচার কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। দেশপ্রেমের যে দৃষ্টান্ত কর্নেল এমদাদ রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর মতো অফিসারের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading