শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতের আদেশে প্রকৃত মালিকানা ফিরেপেলো গৌরনদীর আরিফ ফিলিং স্টেশনের মূল মালিক

০ টি মন্তব্য 7 ভিউ 10 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

মো. জসীম উদ্দিন গৌরনদী
print news | আদালতের আদেশে প্রকৃত মালিকানা ফিরেপেলো গৌরনদীর আরিফ ফিলিং স্টেশনের মূল মালিক | সমবানী

ঢাকা–-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর কটকস্থল এলাকার মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশনের জমি নিয়ে দ্বীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত মালিককে তার মালিকানা বুঝিয়ে দিলেন গৌরনদী থানা প্রশাসন।

সহকারী জজ আদালতের দেওয়ানী মোকদ্দমা নম্বর ১৫/২০২৫ গৌরনদী ও মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশনের মালিক হারুন-অর রশিদ বেপারীর কন্যা সুমাইয়া পপির দেয়া সুত্রমতে জানাগেছে, তারাকুপি মৌজার দাগ নং ৪৫২ ও ৪৫৪, খতিয়ান নং ৫০১ অনুযায়ী মোট ৫৮ শতক জমির মালিক ছিলেন মৃত ওয়াজেদ আলী বেপারী ও তাঁর ভগ্নিপতি মৃত সামসুদ্দিন মোল্লা। পরবর্তীতে সামসুদ্দিন মোল্লার নামে পুরো জমি রেকর্ড হয়। এ ঘটনায় ওয়াজেদ আলী বেপারীর ওয়া‌রিশ (ছে‌লে) হারুন বেপারী বা‌দি হ‌য়ে ল্যান্ড সার্ভে মামলা করেন। আদালতের আদেশে পুনরায় জমির রেকর্ড সংশোধন করে দুইজনের নামে ২৯ শতক করে ভাগ করা হয়।

এই রেকর্ডভুক্ত জমির দক্ষিণাংশে নিজ নামে হারুন-অর রশিদ বেপারী পাম্প স্থাপন করেন, যা এখন মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশন নামে পরিচিত। অপরদিকে উত্তরাংশের মালিক ছিলেন সামসুদ্দিন মোল্লা। তাঁর দুই ওয়ারিশ মৃত সোবাহান মোল্লাা ও জাহানারা বেগম (ওরফে লালবরু)র থেকে পরবর্তিতে কিছু জমি ক্রয় করা হয়।

২০১৫ সালে হারুন বেপারীর কন্যা সুমাইয়া পপি ৯.৬৭ শতক জমি ক্রয় করেন, এবং ২০১৮ সালে সোবাহান মোল্লার উত্তরাধিকার সূত্রে আরও ১৯.৩৪ শতক জমি কেনার কথা থাকলেও, হিরা মাঝি তার নিজ নামে ২৯ শতক জমি (পূরটাই)দলিল করে নেন বলে জানান হারুন-অর রশিদ বেপারীর কন্যা সুমাইয়া পপি।

২০১৫ সালে হারুন-অর রশিদ বেপারী তাঁর পৈত্রিক জমিতে ফিলিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেন। জমি ভরাট ও অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। পরবর্তীতে আর্থিক সংকটে তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা সোলেমান হাওলাদারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নেন। কিন্তু উচ্চ সুদের কারণে পরবর্তীতে দেনা পরিশোধে সমস্যায় পড়লে জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।

হারুন বেপারীর কন্যা সুমাইয়া পপি গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন ও তৈল ডিপো কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর পর বিষয়টি তদন্তে আসে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার একাধিকবার শুনানির রায়ের কাগজপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হন যে সব কাগজপত্র, লাইসেন্স ও মালিকানা বৈধভাবে হারুন-অর রশিদ বেপারীর নামে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গৌরনদী উপজেলা ইউএনও অফিস উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়, হিরা মাঝি ও মানিক মাঝি গং জমি বা পাম্পের কোনো মালিকানা দাবি করতে পারবে না। এর পরেও হিরা মাঝি গং আদালতের আদেশ অমান্য করে পাম্পের সামনে বাসের কঞ্চি, পাটের রশি দিয়ে আটকিয়ে রাখা ও ইট, বালু ফেলে তৈল বিকৃতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ও বিঘ্ন ঘটায় এবং একাধিকবার পাম্প দখলের চেষ্টা চালায় বলে জানান, মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশনের মালিক হারুন-অর রশিদ বেপারীর কন্যা সুমাইয়া পপি।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক গতকাল বুধবার সকালে মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশনের সামনে অন্যায় ভাবে রাখা বাসের কঞ্চি, পাটের রশি দিয়ে আটকিয়ে ও ইট, বালু ফেলে তৈল বিকৃতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকে থানায় জব্দ করে মূল মালিক হারুন-অর রশিদ বেপারীকে তার প্রকৃত মালিকানা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দেওয়ানি মামলার রায় অনুসারে আদালত গৌরনদী মডেল থানাকে যে আদেশ দিয়েছেন, গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তার ফোর্স নিয়ে সে আদেশকে বাস্তবায়ন করেছেন, এবিষয়ে আমার আর কোনও বক্তব্য নেই।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আপনি পছন্দ করতে পারেন

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading