আল ফারাবী; প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ও বিজ্ঞানী
প্রতিনিধিঃ
মোঃ শাহিন
আল ফারাবী’র পূর্ণাঙ্গ নাম আবু নসর মুহম্মদ বিন মুহম্মদ আল ফারাবী। পাশ্চাত্যে তিনি ফারাবিয়াস নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ও বিজ্ঞানী। সেইসময় তাকে দ্বিতীয় শিক্ষক উপাধী দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়াও তিনি মহাবিশ্বতত্ত্ববিদ, যুক্তিবিদ, সুরকার সহ নানান গুনে গুণান্বিত ছিলেন। পদার্থবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তিশাস্ত্র, গণিতশাস্ত্র, চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রভৃতিতে তার অবদান ছিলো উল্লেখযোগ্য। পদার্থবিজ্ঞানে তিনিই ‘শূন্যতা’-র অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন।
আল ফারাবী দর্শন ছাড়াও যুক্তিবিদ্যা ও সঙ্গীত-এর ন্যায় জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখেছিলেন। “আল মদিনা আল ফাজিলা” বা “আদর্শনগর” তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ। “কিতাব আল মুসিকি আল কবির” বা “সঙ্গীতের মহান গ্রন্থ” তার আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ। এছাড়াও “আরা আহল আল-মাদিনা আল-ফাদিলা” বা “পবিত্র শহর”, “কিতাব ঈসা আল-উলুম” বা “জ্ঞানের পরিচিতি”, “কিতাব ঈসা আল-ইকাআত” বা “ছন্দের শ্রেণিবিভাগ” নামে আরও কয়েকটি বইয়ের নাম জানা যায়।
গ্রীক দার্শনিক প্লেটো (খ্রীষ্টপূর্ব ৪২৮- ৩৪৭) এবং এরিস্টটল (খ্রীষ্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২) এর দর্শনের উপর তিনি বিস্তর আলোচনা করেছিলেন। প্লেটো (খ্রীষ্টপূর্ব ৪২৮- ৩৪৭)” এর রিপাবলিক” গ্রন্থে উল্লেখিত আদর্শ রাষ্ট্রের মতো তিনিও একটি আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা করেছেন তার “আল মদিনা আল ফাজিলা” বা “আদর্শনগর” গ্রন্থে। তিনি স্রষ্টার সর্বাধিপত্য স্বীকারের পাশাপাশি সৃষ্টিকেও শাশ্বত বলে মনে করতেন। তিনি কোন চরম মত পোষণ করতেন না। চিন্তাশীলতার ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী মতকে প্রায়শই একসাথে মিলাবার চেষ্টা করতেন।
“আল মদিনা আল ফাজিলা” বা “আদর্শনগর”-এ তার রাষ্ট্রনায়কেট একনায়ক বৈশিষ্ট্য প্রকট। তার মতে রাষ্ট্রের প্রধান রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা হবেন। অন্য সবাই তার বাধ্য থাকবেন। নাগরিকদের ক্ষমতায়ও থাকবে শ্রেণী বিভাজন। যেখানে কোন শ্রেণী তার উপরের শ্রেণীর আদেশ মান্য করবে ও নিচের শ্রেণীর উপর আদেশ জারী করবে। তৎকালীন বহুধাবিভক্ত সামন্ততান্ত্রিক সমাজকে এককেন্দ্রীক রাষ্ট্রকাঠামোর আওতায় আনতে সময়ের বিচারে এরূপ ভাবধারা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেইসময় এই রাষ্ট্রদর্শন প্রভাবও বিস্তার করেছিলো।
আদর্শ রাষ্ট্রকে তিনি অসম্ভব উল্লেখ করছিলেন। কিন্তু এটি অর্জনের জন্য মানুষের চিরন্তন প্রচেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছিলেন। মুসলিম মিল্লাতে তার অবদান অনস্বীকার্য।
আল ফারাবী ৮৭০, মতান্তরে ৮৭২ সালে তুর্কিস্তানের অন্তর্গত খোরাসানের ‘ফারাব’ নামক শহরের নিকটবর্তী ‘আল ওয়াসিজ’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৯৫৬ সালে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।
আরও পড়ুন
- কুলাউড়ায় দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলীরও দোয়া মাহফিল
- ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী তিন পরিবার পেলতারেক রহমানের ঈদ উপহার
- ফিলিস্তিনে হামলার প্রতিবাদে বোরহানউদ্দিনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ
- কাউখালীতে নারীদের মধ্যে হিজাব ও কুরআন মাজিদ বিতরণ
- কোরআনের জন্যই আল্লামা সাঈদীকে বাংলার মানুষ এতো ভালো বাসেন…….. শামীম সাঈদী
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
