বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে  লুটপাট ও অনিয়মের প্রতিবাদে বিশ্বম্ভরপুরে গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত। 

০ টি মন্তব্য 6 ভিউ 7 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
print news | হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে  লুটপাট ও অনিয়মের প্রতিবাদে বিশ্বম্ভরপুরে গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত।  | সমবানী

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে ফসলহানির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে এক বিশাল গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার পলাশ বাজারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শত শত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ জনতা অংশ নিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

​হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের উপজেলা আহ্বায়ক নুরুল আলম সাগরের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ।

​সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাঁধ নির্মাণের শুরু থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে অনিয়ম এবং লুটপাটের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল। বক্তাদের ভাষ্যমতে স্রেফ অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অনেক জায়গায় অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বরাদ্দের বিশাল অংশ লোপাট করে দায়সারাভাবে বাঁশের আড় ও মাটি ফেলে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। এই অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে খরচার হাওর, দেখার হাওর ও আঙ্গারুলী হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার হেক্টর বোরো ফসল এখন পানির নিচে।

​সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খরচার হাওরের কৃষক মতিউর রহমান ও রতিশ দেবনাথ। তারা বলেন, “আমরা সারা বছরের খোরাকি পেতে দিনরাত পরিশ্রম করি, কিন্তু প্রশাসনের অবহেলা আর দুর্নীতির কারণে আজ আমাদের স্বপ্ন পানির নিচে। আমাদের এই ক্ষতির দায় কে নেবে?” আঙ্গারুলী হাওরের কৃষক আব্দুল মতিন ও আব্দুস সালাম অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

​জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলন বলেন, “আমরা সরেজমিনে বিভিন্ন পিআইসি পরিদর্শন করে দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। সমাবেশের মূল দাবিগুলো হল অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত পাউবো কর্মকর্তা ও পিআইসি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে, বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সুনামগঞ্জ থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

​সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতা ওবায়দুল মুন্সী, ইমরান হাসান, আফজাল হোসেন, আতাউর রহমান টিপু, বিল্লাল হোসেন, আবুল কাশেম প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

একটি মন্তব্য করুন

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading