চরফ্যাসনের উত্তর মাদ্রাজ মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় এবার কেউ পাশ করেনি
প্রতিনিধিঃ
খুরশীদ আলম,চরফ্যাশন প্রতিনিধি
চলতি বছর চরফ্যাশন উপজেলা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৬৫ টি মাদ্রাসা অংশগ্রহণ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু উত্তর মাদ্রাজ মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে একজন পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হয়নি। পুরোপুরি ব্যর্থ এই ফলাফল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। দায়ী করছেন মাদ্রাসার সুপারের অদক্ষতা -অব্যবস্থাপনা অনিয়ম,দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাকে।
চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চরফ্যাশন- চেয়ারম্যান বাজার সড়কের পাশে প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। মাদ্রাসাটি থেকে এ বছর ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কেউই পাস করতে পারেনি। সকলেই ফেল করে।
১৯৯৫ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানকালীন মাদ্রাসাটিতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ছিল। মাদ্রাসা ক্যাম্পাস মুখর ছিল শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। কিন্তু সুপার মাওলানা আইয়ুব আলীর অদক্ষতা -অব্যবস্থাপনা অনিয়ম,দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পড়াশোনার মান দিন দিন কমতে থাকে। মাদ্রাসায় পড়াশোনার মানহীন হওয়ায় শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমতে থাকে প্রতি বছর। মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে শতভাগ বিপর্জয় নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়রা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছে গুরুতর সমস্যা। শিক্ষা বিভাগকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে—অন্যথায় ভবিষ্যত প্রজন্মের ক্ষতির দায় এড়ানো যাবে না।
সর্বশেষ মাদরাসা এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোর ৫ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে পরিশিষ্ট ‘খ’ অনুসারে মফস্বল এলাকায় দাখিল সহশিক্ষা মাদ্রাসায় নির্দিষ্ট সংখ্যক অর্থাৎ ২৫০ জন ও মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ২০০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে এবং পরিশিষ্ট ‘গ’ তে বলা হয়েছে মফস্বল এলাকার একটি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হতে গেলে সেই মাদরাসায় ন্যুনতম পরীক্ষার্থী থাকতে হবে ১৮ জন এবং ৫৫ শতাংশ হতে হবে পাশের হার। এমপিও নীতিমালার ১৮ এর ‘ক’ ধারায় বলা হয়েছে, এ নীতিমালার ৫ এর (ক) ও (খ) বর্ণিত আবশ্যকীয় শর্ত পূরণ না করলে বা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির শর্ত ভঙ্গ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা যাবে।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আইয়ুব আলীর জানান বিগত পর পর তিন বছর ধরে আমাদের মাদ্রাসায় পাশের হার ছিল শত ভাগ।এ বছর অধিক কড়াকড়িতে ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
