রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ:: ভবনে তালাছাত্রদলের সাথে মিটিং এ কি তারিখ নির্ধারণ?

০ টি মন্তব্য 5 ভিউ 10 মিনিট পড়ুন
অ+অ-
রিসেট করুন

প্রতিনিধিঃ

print news | প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ:: ভবনে তালাছাত্রদলের সাথে মিটিং এ কি তারিখ নির্ধারণ? | সমবানী

ছাত্রদলের সাথে মিটিং এ সন্ধ্যা সাতটার ঘোষণা করা হয় রাত ৯টায় বলে অভিযোগ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শাকসু নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ডাকসু সহ দেশের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেল বিজয়ী হওয়ায় এবং তাদের দখলে চলে যাওয়ায় সতর্কতামূলকভাবে কৌশলি কায়দায় শাবিতে এগুচ্ছে ছাত্রদল। কিন্তু ছাত্রশিবির বলছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র শিবিরের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে ।

সাধারণ শিক্ষার্থীরাও রয়েছে তাদের পক্ষে । ছাত্রশিবিরের শক্তিশালী অবস্থান দেখে একটি পক্ষ নির্বাচনের তারিখ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এবং অযৌক্তিক তারিখে কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অপচেষ্টা করছে।
ঘোষিত তারিখ ঘিরেএখন শাবিতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার ভোর ৪ টায় শাবি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হাসান বলেন, আমরা প্রত্যাখান করেছি শাকসুর ঘোষিত তারিখ। ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে।

তারিখ পরিবর্তনে বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করে কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সেটি সুরাহা করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা ।
সেই সাথে আন্দোলন কারীরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সম্পর্ক বজায় রাখতে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান কর্তৃপক্ষকে ।

১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঘোষিত তারিখ প্রত্যাখ্যান করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবি জানায়।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত ৯টায় তারিখ ঘোষণার পর পরই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এ সময়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন—
“তুমিও জানো আমিও জানি, ভিসি–প্রোভিসি লন্ডনী”,
“তারেক রহমান জানেন নাকি, প্রশাসনের দালালি”,
“লাগা রে লাগা, তালা লাগা”,
“শাকসু হবে কয় তারিখ? ৮ তারিখ”,
“প্রহসনের নির্বাচন মানি না মানবো না”,
“ছুটির আগে নির্বাচন দিতে হবে”,
“শাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার”,
“লন্ডনের প্রেসক্রিপশন, এই ক্যাম্পাসে চলবে না”।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন,
“গতকাল ভিসি ও প্রোভিসি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচন হবে ৯ বা ১০ তারিখে। কিন্তু আজ ছাত্রদলের সাথে মিটিং করে নির্বাচন ছুটির মধ্যে ফেলে দিলেন। তারা একটি পক্ষকে খুশি করে শাকসু নির্বাচন বানচালের আয়োজন করছে। আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি, যতক্ষণ পর্যন্ত ১০ তারিখের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করা হবে, ততক্ষণ আমরা অবস্থান কর্মসূচী চালিয়ে যাব।”

পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী ইবরাহিম বিন ইসলাম বলেন,
“আজ সন্ধ্যা ৭টায় তারিখ ঘোষণার কথা থাকলেও একটি পক্ষের সাথে মিটিং করে সংবাদ সম্মেলন বিলম্ব করা হয় এবং রাত ৯টায় এসে ১৭ তারিখ ঘোষণা করা হয়। গতকাল ভিসি স্যার বলেছিলেন ১০ তারিখের মধ্যে নির্বাচন হবে। কিন্তু আজ লন্ডনের প্রেসক্রিপশনে নির্বাচন ১৭ তারিখে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে অর্ধেক শিক্ষার্থী ছুটিতে বাড়ি চলে যাবে, যা নির্বাচনের নাটক সাজানো ছাড়া কিছুই নয়।”

এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন,
“আমরা দুই পক্ষের সাথে কথা বলে ১৭ ডিসেম্বর তারিখ ঘোষণা করছি। সব দিক বিবেচনা করে ১৭ ডিসেম্বর একটি ভালো তারিখ। আমরা আশা করি সবাই শাকসু আয়োজনে সহযোগিতা করবে।”
তবে সবশেষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ দুপুরের আগে একটি সিদ্ধান্ত জানাবেন—এই শর্তে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হন তাঁরা।
পরে শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের এই আন্দোলন আজ দুপুর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
আজ সংবাদ লিখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত ছিল। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তারা নতুন কোন কর্মসূচি দেয়নি।

গতকাল গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচন ৯ বা ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আয়োজন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন ভিসি। তবে ঘোষিত তারিখ বদলে যাওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন


Discover more from সমবানী

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০  

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকিজ ব্যবহার করে। আমরা ধরে নেব আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন৷ গ্রহণ করুন আরও পড়ুন

Discover more from সমবানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading