ক্ষিপ্ত ওসি দেলোয়ারের রোষানলে শ্রমজীব রঊফ জেল হাজতে !
প্রতিনিধিঃ
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, সিলেট
সিলেট রেঞ্জের রেঞ্জ ডিআইজি চোরাচালানের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিমালায় বিশ্বাসই থাকলেও মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার কারণে যেমন বন্ধ হচ্ছে না চোরা চালান তেমনি নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক মামলায়।
আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ না করেও ছাত্রলীগের মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দুই সন্তানের জনক শ্রমজীবী রঊফ কে এমন টা ই অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। এতে করে ওসির ফায়দা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সরকারের শাসন ব্যবস্থার ঊপর আচার আছে সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হকের আত্মীয় হিসেবে সে আমল থেকেই সুনামগঞ্জে রাজ করছেন ওসি দেলোয়ার.। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ঊঠার পরও তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে
বিষয়টি এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।
জানাযায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় এজাহার নামীয় আসামি না হওয়া সত্বেও আব্দুর রউফ নামে এক শ্রমজীবী সাধারন ব্যবসায়িকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ। মিডিয়া কর্মীদের সীমান্ত চোরা চালানের তথ্য সরবরাহ করে এ কারণে ওসির রোশানলের শিকার হয়ে জেল হাজতে মানবতার জীবনযাপন করছেন তাহিররপুর এলাকার নিরীহ ব্যবসায়ী রঊফ। অপরদিকে একমাত্র রোজগার রঊফ জেলে থাকায় অনাহারে -অর্দাহারে জীবন-যাপন করছেন তার পরিবার। এখন প্রশ্ন হল চোরাচালান বা চোরাকারবার যদি না হয়ে থাকে তাহলে মিডিয়া কর্মীকে সংবাদ দিলেই অসুবিধা কি? নাকি নিজের চেহারা আড়াল রাখার জন্য এমন স্ট্রিম রোলার চালানো হলো নিরীহ রঊফ এর উপর।
রউফ উপজেলার উওর শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে। পেশায় চারাগাঁও শুল্ক ষ্টেশনে বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এলসিকৃত কয়লা-চুনাপাথর পরিবহন কাজের এক দিনমজুর ও সাধারণ গ্রামের একজন ব্যবসায়ীও বটে।
কদিন পূর্বে শনিবার বিকেলে তাকে কলাগাঁও বাজার থেকে থানার টেকেরঘাট অ¯ায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আবুল কালাম চৌধুরী, এএসআই কার্তিক থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন দেখা করতে বলেছেন বলে রউফকে মোটরসাইকেল যোগে তুলে নিয়ে যায়
রাতভর থানা হাজতে রেখে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয় তাকে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গেল রবিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় জেল হাজতে।
আটক দেখানো হয় বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায়।
সেই মামলার বাদী তাহিরপুর থানার এস আই আমির হোসেন।
রবিবার তাহিরপুর থানার মামলার বাদী এসআই মো. আমির উ্দ্দিন জানান, আসলে আব্দুর রউফ ওই মামলায় কোন এজাহার নামীয় আসামি ছিলেন না, মামলার তদন্তকারি অফিসার বলতে পারবেন কি কারনে তাকে আসামি হিসাবে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছেন।
রবিবার উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার স্ত্রী গ্রেফতার রউফের বিধবা মা মোছা বানেছা বেগম (৭০) কান্না জড়িত কন্ঠে , শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে পুলিশের নির্মমতার ইতিহাস টেনে বলেন, আমার ছেলে কোন রাজনৈতিক দলের পদবীধারী নেতা-কর্মী বা সমর্থক ওনা।। সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসাবে চারাগাঁও শুল্ক ষ্টেশনে কয়লা চুনাপাথর পরিবহন কাজে থাকা শ্রমজীবী।
তিনি আরো বলেন, থানা পুলিশের আক্রোশে আমার ছেলে আজ কারাগারে।
রবিবার তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের এর মুঠোফোনে রউফের বিরুদ্ধে কি মামলা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন রয়েছেন থানার বাহিরে, থানায় গিয়ে জানাবেন। এরপর থেকেই আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি তার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর
বুধবার রাতে কল দিয়ে জানতে চাওয়া হয়
রউফের নামে কি মামলা রয়েছে তাহিরপুর থানায় উত্তর না দিয়ে জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার কে তথ্য জানার জন্য কল দিতে অনুরোধ জানিয়ে কথা না শুনেই দেন ধন্যবাদ।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
