তদন্তেই যেন থেমে না যায় দুর্নীতির অভিযোগ
প্রতিনিধিঃ
রফিকুল ইসলাম লাখাই (হবিগঞ্জ)
তদন্তেই যেন থেমে না যায় দুর্নীতির অভিযোগ
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ।
আলোর মুখ দেখেনি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার মোড়াকরি হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুুরুল ইসলাম এবং হাইস্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি এবং লাখাই উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন সুমন,দাতা সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি বশির আহমেদ দুর্নীতি অর্থ আতœসাৎ,অনিয়ম বিষয়ক তদন্ত দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়ায় জনমনে চলছে আলোচনা সমালোচনা।
তবে কি এবারও তদন্তের নামে অদৃশ্যের কারণে অভিযোগ ধামাচাপা পড়বে? নাকি লাল ফিতার ফাইলে বন্দি হয়ে থাকবে। এমন প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দুর্নীতি গণমাধ্যমে একাধিক বার প্রকাশ হলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছিল নিরব ভুমিকায়। তাই এবিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ৮ অক্টোবর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ পত্র দাখিল করেন মোড়াকরি গ্রামের মোঃ আব্দুল মোতালেব। অভিযোগটি আমলে নিয়ে,গত ২২ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলতাব হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। অভিযোগে জানা যায় যে, মোড়াকরি হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল ইসলাম এ কলেজে যোগদানের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছে।
অধ্যক্ষ মোঃ নুুরুল ইসলাম দীর্ঘ ৩২ বছর যাবত এ প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার সুবাদে তিনি নিজেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সাবেক সভাপতির চাচাতো বোন,ভাই, স্ত্রী ও অধ্যক্ষের ছেলেকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়ায়। সিসিটিভি ক্রয়ের নামে নিম্ন মানের যন্ত্রপাতি ক্রয় করে অর্থ আত্মসাৎ, পিবিজিএসআই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ৫ লক্ষ টাকা যথাযথভাবে কাজে না লাগিয়ে তা আত্মসাৎ করেন।
কলেজের মালিকানাধীন পুকুরের লীজের মাধ্যমে পাওয়া ৪ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা রেজুলেশনে না উঠিয়ে তা ফাঁকা রেখে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে সে টাকা আত্মসাৎ করেছে। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, টিউশন ফি বাবদ ৪ লক্ষ ৭ হাজার ৩৪০ টাকার জমাকৃত টাকা যা জমা দেওয়া হয়নি।
পারফরমেন্স বেজট গ্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশনস (পিবিজিএসআই) আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৫ লক্ষ টাকা করে প্রদান করা অর্থ পায় মোড়াকরি হাইস্কুল এন্ড কলেজ। প্রধান শিক্ষক প্রভাব কাটিয়ে অনুদানের টাকা গুলো সঠিক খাতে ব্যয় করেনি। উল্লেখিত খাতগুলো ছিল বইপত্র লাইব্রেরি, শিক্ষা উপকরণ এবং গবেষণার সরঞ্জাম ১ লক্ষ,৫০ হাজার টাকা। ছাত্রীদের জন্য ফ্যাসিলিটির অবকাঠামো,বিশুদ্ধ পানি,শৌচাগার কমন রুমের উন্নয়নের জন্য ১ লক্ষ,২৫ হাজার টাকা।
সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা ব্যয় ৭৫ হাজার টাকা, প্রতিবন্ধি বিশেষচাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ফ্যাসিলিটি উন্নয়ন ৫০ হজিার টাকা। প্রধান শিক্ষক কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে জানতে ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন সুমনের সাথে যোগাযোগ করলে সে বলে আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যা আদৌ সত্য নয়। ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য বশির আহমেদ বলেন আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলতাফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমার দেশ প্রতিনিধিকে বলেন, তদন্তের কাজ শেষের দিকে আগামী এক সপ্তার মধ্যে প্রতিবেদন দিয়ে দিব।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
