তজুমদ্দিনে একজনের জমি অন্য জনে দখলে নিতে নিজ দাদার নাম পরিবর্তনের চেষ্টা
প্রতিনিধিঃ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোলার মনপুরার বাসিন্দা হয়ে তজুমদ্দিনে চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য গোপন করে ওয়ারিশ সনদে সাদেক পিতা ছমেদ এর পরিবর্তে মৃত নুরুল হক লিখে ওয়ারিশ সনদ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নিজামুদ্দিন, শামীম ও তানভীর গংদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে আবু তাহের নামক বৃদ্ধা অভিযোগ করে বলেন, আমি ১৯৮৭ সালে তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের পূর্ব রামদেব পুরের বাসিন্দা সাদেক পিতা মৃত নুরুল হক এর কাছ থেকে মনপুরা উপজেলার চর গোয়ালিয়া মৌজার ১০৭৪ খতিয়ানের জে এল নং ৭২ এর এক একর ৫০ জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছি।
আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমি সুন্দর ভাবে চাষাবাদ করে ভোগদখল করি, কিন্তু হটাৎ ৩৮ বছর পর ২০২৫ সালে মনপুরা উপজেলার চর যতিন এলাকার বাসিন্দা সাদেক পিতা মৃত ছমেদ এর সন্তান তানবীর গংরা তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ছাদেক পিতা ছমেদ এর পরিবর্তে আমার দাতা সাদেক পিতা মৃত নুরুল হক লিখে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে আমার ভোগদখলীয় জমি দখল করার চেষ্টা করতেছে। আমি তাদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে ইকবাল হোসেন শাকিল পিতা তৈয়ব মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, নিজামুদ্দিন, শামীম, তানভীর গংরা তজুমদ্দিন উপজেলা চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ নিয়েছে তিনি জানান , ০৩নং চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ তজুমদ্দিন ভোলা মাওলানা কান্দি ০৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও তাহার ওয়ার্ডের চৌকিদার বাবুল দাস। গত ৩০/০৭/২০২৫ইং তারিখে মৃত মো: ছাদেক পিতা: মৃত মো: আ: ছমেদ। আঃ ছমেদ এর পরির্বতে মৃত নূরুল হক নাম ব্যবহার করে একখানা ওয়ারিশ ও মৃত্যু সনদ প্রদান করার প্রক্রিয়া করে। পরবর্তিতে আমরা জানতে পেরে মো: ছাদেক পিতা: আ: ছমেদ এর প্রমান নিয়ে সেখানে স্ব-শরীরে হাজির হই।
আমাদের উপস্থিতিতে প্রমান দেখে চৌকিদার ও মেম্বার মৃত্যু রেজিস্ট্রারে মো: ছাদেক এর পিতার নাম মৃত নুরুল হক কেটে সঠিক নাম মোঃ আঃ ছমেদ উক্ত বইতে লিপি বন্ধ করে। এবং আমাদেরকে মো: ছাদেক পিতা: আ: ছমেদ এর জন্ম নিবন্ধন প্রদান করেন। তাহারা আমাদেরকে মৃত্যু সনদ এর আবেদন করার জন্য পরামর্শ দেন। মৃত্যু সনদ এর ফরম নিয়ে প্রথমে চৌকিদার এর কাছে গেলে তিনি উক্ত ফরমে স্বাক্ষর করেন তাহার পর মেম্বার মো: সিরাজুল ইসলাম এর কাছে গেলে তিনি বিভিন্ন তালবাহানা ও বিভিন্ন অজুহাত দেখান।
এক পর্যায়ে সে আমাদেরকে উপস্থিত লোকজন এর সামনে মো: ছাদেক এর পরিবারের কাছে ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার কথা শিকার করেন, উক্ত সনদ গুলো দেওয়ার পর মনপুরা উপজেলায় আমাদের দখলীয় কৃষি জমিতে ঝামেলা করার পায়তারা করতেছে তাহার ওয়ারিশগন। প্রকাশ থাকে যে মো: ছাদেক পিতা: আ: ছমেদ সাবেক গ্রাম: চন্ডিপুর, ইউনিয়ন: সোনাপুর, উপজেলাঃ তজুমদ্দিন, ভোলা।
মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে সেখান থেকে তাহারা তজুমদ্দিন উপজেলার ০৩নং চাঁদপুর ইউনিয়নে মাওলানা কান্দি ০৫নং ওয়ার্ডে মো: ছাদেক এর শশুর বাড়িতে কিছু দিনের জন্য আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে তাহারা মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নে চর যতিন ০৫নং ওয়ার্ডে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন। সেখানে মো: ছাদেক পিতাঃ আঃ ছমেদ ও তার বড়ো ছেলে নিজাম উদ্দিন সেখানে ভোটার হন, এবং মোঃ ছাদেক সে ১৯৯৮ইং সন মৃত্যু বরণ করেন। এমতাবস্থায় মো: সিরাজুল ইসলাম মেম্বার ও বাবুল চৌকিদার টাকার বিনিময়ে সঠিক তথ্য গোপন করে ভুল তথ্য দিয়ে তাদেরকে সনদ গুলো প্রদান করেন।
তিনি জানান, এ বিষয়ে আমরা যখন ৩ নং চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান শাজাহান এর কাছে বিষয়টি বলি তখন তিনি ২ পক্ষকে ডাকে সমাধান করার জন্য আমরা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে আমাদের উপর তানভীর, নিজাম,সামীম গংরা অতর্কিত হামলা করে এ বিষয়ে মোকাম তজুমদ্দিন বিজ্ঞ আমলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমি মামলা করি যার মামলা নং এম.পি /২০২৫ইং (তজুঃ) M২-১১০/২৫-6 মামলা সুত্রে জানা যায়, তানভীর গংদের সাথে জমি জমা নিয়া বিরোধ চলিয়া আসিতে থাকিলে আমাদের মধ্যকার বিরোধ ফয়সালার জন্য চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহজাহান মিয়ার মধ্যস্থতায় আপোষের লক্ষ্যে ঘটার দিন বিগত ২৮/১০/২০২৫ইং তারিখ রোজ মঙ্গলবার দুপুর অনুমান ১২.০০ ঘটিকার সময় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সালিশি চলাকালীণ আকস্মিক ভাবে আসামীরা আমাদের উপর উত্তেজিত হয়ে ৩নং আসামীর নির্দেশে লোহার রড ও এস,এস পাইপ দ্বারা খুন করার জন্য আক্রমণ করিয়া ১নং আসামী খুন করার জন্য আমার মাথায় আঘাত করিতে আমি ডান হাত দ্বারা ঠেকাইলে উক্ত আঘাত আমার ডান হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুলে লাগিয়া আঙ্গুল ভাঙ্গিয়া যায়। তৎপর ২নং আসামী লোহার রড দ্বারা ১নং স্বাক্ষীর নাকের উপর স্বজোরে আঘাত করিয়া নাক ফাটাইয়া ও ভাঙ্গিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। রক্তে জামা কাপড় ভিজিয়া যায় এবং নাকে ৩টি সেলাই লাগে।
৩নং আসামী এসএস পাইপ দ্বারা আমার ছোট ভাই ২নং স্বাক্ষীর মুখে খুন করার জন্য আঘাত করিলে উক্ত আঘাত ২নং স্বাক্ষীর উপরের ঠোটের ডান পার্শ্বে লাগিয়া ঠোট কাটিয়া গুরুতর রক্তাক্ত ফাটা জখম হয়। ২টি সেলাই লাগে। সকল আসামীরা আমাকে ও ১/২নং স্বাক্ষীদ্বয়কে এলোপাথারী পিটাইয়া মুখে পিঠে হাতে রানে সহ সর্ব শরীরে মারাত্মক জখম করে। ১নং আসামী আমার ব্যাগে থাকা নগদ ২,০০,০০০/- টাকা ও মূল্যবান কাগজপত্র ছিনতাই করিয়া নিয়া যায়। ১নং আসামী আমার একটি স্যামসাং মোবাইল মূল্য ৩০,০০০/- টাকা, ২নং আসামী ২নং স্বাক্ষীর একটি রিয়ালমি মোবাইল মূল্য ৩২,০০০/- টাকা, ৩নং আসামী ৩নং স্বাক্ষীর একটি Vivo মোবাইল মূল্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাদেক পিতা ছমেদ এর আরেক ভাই বাদশা মিয়া বলেন, আমার বাবার নাম ছমেদ মৃত নুরুল হক নামে আমরা কাউকে চিনি না আমার ভাই সাদেকের কোন জমি মনপুরা নেই।
এ ব্যপারে নিজামউদ্দিন গংদের সাথে আলাপকালে জানান, উক্ত বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে তারা এরিয়ে যান।
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোহাব্বত খান জানান,উভয় পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে তদন্ত শেষে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আরও পড়ুন
- বোরহানউদ্দিনে ইসলামী আন্দোলনের গণ সমাবেশ
- ভোলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৫ কারবারি আটক
- বোরহানউদ্দিনে খাবারে নেশা খাওয়াইয়া অচেতন করে ২ লক্ষ টাকা চুরি অসুস্থ্য ৫ জন
শেয়ার:
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket
- Share on Threads (Opens in new window) Threads
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
Discover more from সমবানী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
