মাদকের নিরাপদ রোড সীমান্ত এলাকা। সেখানে নিরাপদে করা যায় মাদক ব্যবসা। চোরাচালান তাই সেই এলাকার এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সেন্টারে তার ভাতিজা দীর্ঘদিন থেকে ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর মুখে মুখে বলে বেড়াচ্ছে। যদিও আপন চাচা নয় বলে দায় এড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন মিডিয়ার কাছে স্থানীয় এলাকার প্রভাবশালী বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি সদস্য সামছুল হক সামছু।
নৌ পথে ইয়াবার চালান নিয়ে যাবার পথে নৌযান থেকেই সীমান্তের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি সদস্যের সামছুর ভাতিজা সাদেক আলীকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আটক সাদেক সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের উওর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম কলাগাঁও’র বিল্লাল মিয়ার ছেলে ও একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের একই সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দা সীমান্তের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি সদস্য কয়লা আমদানিকারক সামাছুল হক সামছু মেম্বারের ভাতিজা।
সোমবার বিকেলে ২৮ -বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ (বিজিবি)’র সুনামগঞ্জের অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির ইয়াবাকারবারি সাদেককে ব্যাটালিয়নের তাহিরপুরের চারাগাঁও বিওপির বিজিবি টহল দল কতৃক আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
সোমবার থানায় দেয়া এজাহার, স্থানীয় সীমান্তবাসী,বিজিবি সুত্র জানায়, পণ্য ও যাত্রীবাহি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে নৌ পথে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে যাবার পথে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের চারাগাঁও বিওপির বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন সংসার হাওরের পাথরঘাটা থেকে ওই বিওপির বিজিবি’র একটি টহল দল সন্দেহজনক ভাবে তল্লাশী চালায় ওই ট্রলারে সোমবার সকালে।
তল্লাশীকালে ট্রলারে থাকা ট্রলার মালিক বিল্লালের ছেলেসাদেকের হেফাজতে থাকা ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ বিজিবির ওই টহল দল তাকে আটক করেন।
আটকের পর সাদেক সাবেক ইউপি সদস্য সীমান্তের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা সামছুল হক সামছুর প্রভাব খাঁটিয়ে বিজিবির হেফাজত থেকে তাকে ছেড়ে দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করে বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বিজিবি ও পুলিশী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সাদেক জানায়, ভারত থেকে ইয়াবার ওই চালান নিয়ে আসে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে আরেকদল ইয়াবাকারবারির নিকট বিক্রয়ের জন্য।
সোমবার বিকেলে জব্দকৃত ইয়াবাসহ আটককৃত সাদেককে তাহিরপুর থানায় সোপর্দ পূর্বক বিজিবির পক্ষ থেকে মাদক দ্রব্যনিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছ বলে বলে নিশ্চিত করেন থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন ।।
এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা
কয়লা আমদানি কারক সামছুল হক সামছু সাথে মোঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে
তিনি জানান, তার ভাতিজাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনাটি সাজানো। সে নৌকা চালক। কে বা কারা ইয়াবার ব্যাগটি তার নৌকায় দেখে চলে গেছে।
তবে ইয়াবা কারবারে তার শেল্টার দেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, আটক সাদেক তার আপন ভাতিজা নয়। তবে আত্মীয়।
তিনি কয়লা আমদানি কারক।
উল্লেখ্য, পুলিশ, বিজিবি, র্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ, এপিপিএন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ মাদকসহ বহনকারীদের গ্রেফতার করছে নিয়মিত। কিন্তু এর আড়ালের মুখোশধারীরা অর্থাৎ শেল্টার দাতাদের আইনের আওতায় আনতে না পারায় নিয়মিত অভিযান করেও
মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যে কারণে ধ্বংস হচ্ছে সমাজ ও যুবকরা। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বহু পরিবারের কাঙ্ক্ষিত আশা ভরসা। মাদকাসক্তদের ছুবলে পরে অনেক ব্যবসায়ী যেমন হারাচ্ছে তার ব্যবসা চাঁদা দিতে না পেরে। তেমনি অনেক নারী হারাচ্ছে তার সংসার মাদকাসক্তের জ্বালা সইতে না পেরে।
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে। যুবসমাজ রক্ষায় এখনই প্রয়োজন যথাযত ব্যবস্থা।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত