
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ২০২৫) সন্ধ্যার পর তিস্তা নদীর দুই তীরে মশাল জ্বেলে আবার প্রতিবাদ জানালো উত্তাঞ্চল। লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১১টি পয়েন্টে একযোগে এই মশাল প্রজ্জ্বলন করা হয়। এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
প্রতিবাদী মশাল প্রজ্জ্বলনের পূর্বে বক্তৃতায় আসাদুল হাবিব দুলু বলেন ‘তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য আমরা একের পর এক কর্মসূচি দিচ্ছি। কখনো শোভাযাত্রা, কখনো অবস্থান কর্মসূচি, কখনো গণমিছিল বা স্মারকলিপি দেওয়া—সবই করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত আমাদের এই কান্নাকে সরকার আমলে নেয়নি। তিস্তা শুধু লালমনিরহাটের সমস্যা নয়, এটি দেশের জাতীয় সমস্যা।’
তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর বিভাগের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা এ পাঁচ জেলার ১৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তা নদী আমাদের বুক ছিঁড়ে দিয়েছে। একসময় মায়ের মতো আপন ছিল এই তিস্তা, আজ সে-ই আমাদের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সরকারের সমালোচনা করে দুলু বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে শুধু আশ্বাসই মিলছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর রংপুরে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল করে দেওয়া হবে।’
দুলু আরও বলেন, ‘সরকার ধীরগতিতে কাজ করছে, আবার কেউ কেউ তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যারা এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে, তারা দেশ ও জাতির শত্রু।’
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত