
গাজীপুরের শ্রীপুরে গোয়াল ঘরে গরু রেখে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়েছিলেন কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫৫)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। চোরেরা গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে একটি ষাঁড়, দুটি গাভী ও দুটি বকনা চুরি করে নিয়ে গেছেন। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্যে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। বাইরে থেকে কৃষকের বসত ঘরের দরজায় শিকল দিয়ে চোরের দল গরুগুলো চুরি করে নিয়ে যায়।
কৃষক রফিকুল ইসলামের বাড়ী উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের কপাটিয়া পাড়া (জোনাকি মোড়) গ্রামে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দুইটার পর কোনো এক সময় গরু চুরির ঘটনাটি ঘটে।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গবাদি পশু পালন করতেন। সেগুলো মোটাতাজা করে দুই ঈদে বিক্রি করতেন। তাঁর গোয়ালে একটি ষাঁড়, দুটি গাভী ও দুটি বকনা ছিল। গোয়াল ঘরের পাশেই তাঁর শোবার ঘর। সেখানে স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন।
গতকাল শনিবার রাত ১২টার দিকে জোনাকি মোড় থেকে বাড়ীতে এসে রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ করেন। রাত দেড়টার দিকে গোয়াল ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে সবাই পড়েন। ভোর ৫ টার দিকে ঘুম ভাংলে নিজের শোবার ঘর থেকে বের হতে চাইলে ঘরের দরজা বাহির থেকে তালা লাগোনো বুঝতে পারেন। পরে তিনি ভাতিজা শামীমকে ফোনে ডেকে বাড়ীতে নিয়ে আসনে এবং দরজা খুলে ঘর থেকে বের হন।
শামীম বলেন, কাকা আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমার ঘরে বাহির থেকে ছিটকানো লাগানো। তখনই আমার সন্দেহ হয়েছে কাকার গোয়াল ঘর থেকে হয়তোবা গরুগুলো চুরি হয়ে গেছে। পরে বাড়ীতে গিয়ে দেখি গোয়াল ঘরে একটি গরুও নেই। তখন কাকাকে বলি আপনার গোয়াল ঘরে একটি গরুও নাই।
পরে দরজা খুলে দিলে কাকা গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখেন একটি ষাঁড়, দুটি গাভী ও দুটি বকনা চুরি হয়ে গেছে। চোরেরা বাড়ির প্রধান দরজায় শিকল আটকে গোয়ালঘর থেকে গরুগলো চুরি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি মুঠোফোনে চকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে জানালে সকালে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যায়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, মাওনা ইউনিয়নে এক কৃষকে গরু চুরি বিষয়টি আমি শুনেছি। এখনো (দুপুর) পর্যন্ত থানায় অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত