
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে জয় এনে দিয়েও নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গাজীপুরে কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের নীরব অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিজয়ের উচ্ছ্বাস ম্লান করে দিয়েছে মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশের পরের বাস্তবতা। স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকদের অনেকেই বিষয়টিকে কেবল পদবঞ্চনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদানের মূল্যায়নের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুর ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। দলীয় কর্মীদের পোস্ট, সমর্থকদের মন্তব্য এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়—জেলার মানুষের প্রত্যাশা ছিল অন্তত একজন হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন।
শিল্পাঞ্চল গাজীপুর জেলা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলেও এবার কোনো সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলনে গাজীপুরবাসীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সিদ্ধান্তে স্থানীয়রা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
গাজীপুরের পাঁচটি আসনের চারটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির নেতারা। গাজীপুরের কাপাসিয়া আসনটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছে। অতীতে এই জেলা থেকে এম এ মান্নান, আ স ম হান্নান শাহসহ অনেকেই বিএনপির মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন। এবার এই জেলা থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।
সচেতন মহল মনে করছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল জেলা হিসেবে গাজীপুর থেকে নতুন এবং প্রবীণদের নিয়ে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য করা প্রয়োজন ছিল। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধান মন্ত্রী এ বিষয়টি বিবেচনা করবেন এবং ভবিষ্যতে গাজীপুরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত