
পিরোজপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক আমলের ১০ টাকার চাল খেয়েও মানুষের পেটের ব্যথা যায় নাই। এখন আবার নতুন করে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। কেউ বলছে ২ হাজার, কেউ ৭ হাজার, কেউ আবার ২০ হাজার, আরও বলা হচ্ছে ৫ লক্ষ, ৫০ লক্ষ এমনকি ৫০ কোটি।
অথচ বাস্তবে বাংলাদেশে কেয়ামতের আগে ৫০ কোটি মানুষ হবে কিনা, সেটাই অনিশ্চিত। এসব প্রতিশ্রুতি আসলে আগের ১০ টাকার চালের মতোই ধাপ্পাবাজি, যা এখন দেশের মানুষ বুঝে ফেলেছে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় পিরোজপুর শহরের জেলা স্কুল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এখন মা-বোনদের কাছে কার্ড নিয়ে যায়, মা বোনরা বলে যাদের কাছে আমাদের মান-ইজ্জত ও সন্তানদের নিরাপত্তা নেই, তাদের দেওয়া কার্ডের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নিরপরাধভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে একটি ভোট অত্যন্ত মূল্যবান। প্রতিটি ভোট ও প্রতিটি সিট ইনসাফের পক্ষে দেওয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, যারা চাঁদাবাজি করেছে, মানুষের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে এনেছে, অবৈধভাবে সম্পদ দখল করেছে তাদের লাল কার্ড দেখানোর দিন হচ্ছে আগামী ১২ তারিখ। ওই দিন জনগণ দখলদার, মামলাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং আধিপত্যবাদের দালালদের লাল কার্ড দেখাবে।
সমাবেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ লুট করে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দেশ সেবার সুযোগ পেলে এই অর্থ ওদের মুখের ভিতরে হাত দিয়ে পেট থেকে তা বের করে আনা হবে ইনশাআল্লাহ। সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনা হবে এবং ইনসাফের ভিত্তিতে তা ব্যয় করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের যেসব এলাকা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ও পিছিয়ে রয়েছে, উন্নয়ন সেখান থেকেই শুরু হবে। কে মন্ত্রী বা কে প্রধানমন্ত্রী তা বিবেচ্য হবে না; ন্যায্যতার ভিত্তিতেই উন্নয়ন বণ্টন করা হবে। অতীতের ভোট কারচুপির সংস্কৃতি আর চলবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদের অপমান করা হবে না। তাদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবন গড়তে পারে।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ নির্মানের নির্বাচন। তাই গনভোটে ‘হ্যাঁ মানে আজাদি’, ‘না মানে গোলামী’এই কথা মাথায় রেখে দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান। পিরোজপুর ১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর ২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী ও পিরোজপুর ৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদী সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।
পরে পিরোজপুর-১ ও ২আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদীর হাতে দলীয় প্রতিক দাড়িপাল্লা, পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপির শামীম হামিদীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত