
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শিল্প এলাকার মানুষের সুবিধায় কাজ করবে জামায়াত। সবার প্রতি ইনসাফ করা হবে। শিল্প এলাকাকে শিল্পের মতোই সাজানো হবে, যাতে শ্রমিক ভাই ও বোনেরা সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। মা-বোনদের বেতনবৈষম্য আর থাকবে না।
মায়েদের শিশুর বয়স দুই থেকে আড়াই বছর না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবেন। বাকি সময় সন্তানকে দেবেন। এর দায়িত্ব সরকারকে নিতেই হবে। মায়ের সংখ্যা বুঝে প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার রাখার ব্যবস্থা করা হবে। তাই যারা মায়েদের সম্মান করেন না, আল্লাহ তাদের অপমানিত করেন।
মঙ্গলবার বিকালে গাজীপুরে রাজবাড়ি মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, রাজার ছেলে রাজা—রাজনীতির এই পদ্ধতি পাল্টে দেওয়া হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে ক্ষমতায় আসতে পারেন, সে ব্যবস্থা করব। গাজীপুরের পানি, গ্যাস, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সবকিছুতে সমস্যা। কিন্তু গাজীপুর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্ব রাখছে।
তরুণদের নিয়ে জামায়াতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করব না, কাজ তুলে দেব। যুবসমাজের হাতে দেশ তুলে দেওয়া হবে। তারা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশকে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে রাজনৈতিক দলের, জনগণের উন্নয়ন হয়নি। দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। নেতাদের টাকা হু হু করে বেড়েছে।
পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি। জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার আমাদের। অন্য দলও সেই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ঋণখেলাপিদের নিয়ে তারা চলে। আগে তাদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।
সময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্য আরেকটি দল (বিএনপি) ক্ষমতায় গেলে নিরাপদে কেউ থাকতে পারবে না। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব পেশার লোক অশান্তিতে থাকবেন। ভোট বুঝে নিতে হবে, ভোট ডাকাত আসলে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
এসময় তিনি জনসভায় গাজীপুরের জনগণের কাছে দাঁড়িপাল্লা ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে ভোট চেয়েছেন আমীরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত