তাহিরপুরে এক শিক্ষিকার প্রাক প্রাথমিকে ক্লাস নেয়ার সময় গেটাপ দেখে,রুচিবোধ দেখে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হতাশ হলেন। তারপর নিজেই ভয়েস দিয়ে শিক্ষিকার ক্লাস নেয়ার ভিডিও ধারন করে ব্যাক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে আপলোড দিলেন। মুহুর্তেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লো উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্থানীয় লোকজনের কাছে। ভিডিওটি দেখার পর একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি চাপের মুখে ঘন্টা দু’এক পর ভিডিওিটি সরিয়ে নেন তার আইডি থেকে।
২৩ অক্টোবর বুধবার বিকেলে কামরুজ্জামন শেখ নামের আইডিতে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরান লাউড়ের গড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিকের ক্লাস চলাকালীন সময় তিনি বলছেন ’’আমি হতাশ হইলাম প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষকের এই গেটাপ দেখে,সারা দেশে ১০ম গ্রেডের শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে,আমি আন্দোলনের পক্ষে। কিন্তু এই শিক্ষকের এ গেটাপ কেনো,কি ভাবে তা ধারন করবে,১০ম গ্রেড তো দ্বিতীয় শ্রেনীর গেজেটেড কর্মকর্তা,তাকে তো গেটাপে,রুচিতে, ভাবে ভঙ্গিতে,পোশাকে এগিয়ে আসতে হবে। আপা আপনি আরও একটু পরিমার্জিত পোশাক পড়বেন সহ নানা কুরুচিপূর্ন কথা। যা কোন ভাবে কাম্য নয় তাহিরপুরে কর্মরত শিক্ষক শিক্ষিকা সহ সবার। বিষয়টি নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন স্কুল শিক্ষিকা,সহ তার অভিভাবকেরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা অভিযোগের স্বরে বলেন,সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামন শেখ প্রতিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে হুটহাট শিক্ষকদের ক্লাস নেয়ার ভিডিও ধারন করেন। শিক্ষকরা অনেক সময় অপ্রস্তুত থাকেন। সে সময় শিক্ষকরা কিছু বলতে গেলে উল্টো তাদের দমক দিয়ে থামিয়ে দেন শিক্ষা কর্মকর্তা। এ আচরন তিনি অনেক দিন ধরেই করে আসছেন বলেও তারা জানান।
পুরানলাউড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) বিলকিস বেগম বলেন,স্যারকে আমি বলেছি,উনি প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষক নন। প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষক ছুটিতে আছেন। তার পরও তিনি অশালীন কথাবার্ত সংযোজন করে নিজের ভয়েস দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে ফেইসবুকে পোস্ট দেন। যা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। আমার সহকারী শিক্ষিকা এর পর থেকে মানষিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
মধ্য তাহিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন,এক জন শিক্ষকের গেট আপ ঠিক নাই বলে কি আমরা ১০ম গ্রেড দাবী করতে পারি না। ১০ম গ্রেডের সাথে গেটাপের কি সম্পর্ক ,রুচির কি সম্পর্ক তা আমার বোধগম্য নয়।
বালিজুরী নয়াহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন,শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের ভুল থাকলে সংশোধন করার নির্দেশ বা আদেশ শিক্ষা কর্মকর্তা দিতে পারেন,তা মৌখিক কিংবা অফিসিয়াল হতে পারে। কিন্তু ভিডিও করে উনার ব্যাক্তিগত আইডি থেকে ফেইসবুকে পোস্ট দেয়া হেয় প্রতিপ্রন্ন ছাড়া কিছু না। আজ ভোরে পুরান লাউড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
মোবাইল আপলোডের পর থেকে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামন শেখ এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। (০১৭১৮-৬১৫০২১)। কিন্তু বুধবার বিকাল ৫ টা ২৫ মিনিটে বেশ কয়েকবার উনার মোবাইল নাম্বার খোলা থাকলেও বেশ কয়েকবার ফোন করলেও উনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো.আব্দুল আওয়াল বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ কামরুজ্জামন সাহেব আমার কাছে এসেছেন ভিডিও ফেইসবুকে পোস্ট দেয়ার জন্য শিক্ষিকা ও তার অভিভাবকদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের সমন্বয় সভা আছে দেখি কি করা যায়। তবে তা তিনি ফেইসবুকে দিতে পারেন না বলেও শিক্ষা কর্মকর্তা জানান।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত