
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় দুই টি স্কুল ও একটি মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হয়নি। পুরোপুরি ব্যর্থ এই ফলাফল স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভোলা জেলায় মোট তিনটি স্কুলের কেউ পাস করেনি। স্কুলগুলো হলো- ফরিদাবাদ জুনিয়র হাই স্কুলে, শামিম মেমোরিয়াল স্কুল ও উত্তর মাদ্রাজ মহিলা দাখিল মাদরাসা।
চরফ্যাসন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শামীম মেমোরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করে, পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬ জন। কিন্তু কেউই পাস করতে পারেনি।
অন্যদিকে, দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নের ফরিদাবাদ জুনিয়র হাই স্কুলে ২৭ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়, যার মধ্যে ২৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে উত্তর মাদ্রাজ মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এখানেও কেউ পাশ করেনি। ফলাফল একেবারে শূন্য—সকলেই ফেল।
এই শতভাগ ব্যর্থতা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়রা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছে গুরুতর সমস্যা। শিক্ষা বিভাগকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে—অন্যথায় ভবিষ্যত প্রজন্মের ক্ষতির দায় এড়ানো যাবে না।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়ে। এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে বরিশাল বোর্ডের শিক্ষার্থীরা।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ১৭ হাজার ৭৬ জন ও মেয়ে ১৯ হাজার ৯৯২ জন। অন্যদিকে, বরিশাল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ১১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৪২৯ জন ও ছাত্রী ১ হাজার ৬৮৫ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ২২ হাজার ৩২৭ জন, কুমিল্লায় ৯ হাজার ৯০২ জন, যশোরে ১৫ হাজার ৪১০, চট্টগ্রামে ১১ হাজার ৮৪৩, সিলেটে ৩ হাজার ৬১০, দিনাজপুরে ১৫ হাজার ৬২জন, ময়মনসিংহে ৬ হাজার ৬৭৮।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত