ক্বীন ব্রীজ এলাকার রাতের কিশোর গ্যাং সরদার আলামিন ওরফে ছুরি আলামিন কে আটক করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
টিম কোতোয়ালি ৯ এপ্রিল রাত্রিকালীন ডিউটির সময় ক্বীন ব্রীজ এলাকা থেকে এক খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তির মোবাইল নিয়ে গেছে খবর পেয়ে সন্দেহ বাজন বেশ কিছু জায়গায় তল্লাশি শুরু করা হয়। অবশেষে চুরি হওয়া মোবাইলসহ সুরমা মার্কেটের সামন থেকে আলামিনকে নাটকের পর উদ্ধার করা হয় তার কাছ থেকে। বেশ কিছুদিন থেকে আলামিন ক্বীন ব্রীজ এলাকায় রাতের বেলা দাঁড়ালো ছুড়ি দিয়ে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষদের জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে লোকমুখে প্রচার ছিল।
বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পুলিশ পরিদর্শক এবাদুল্লাহ জানান, ভোরবেলা এক ব্যক্তির মোবাইল নিয়ে গেছে খবর তাৎক্ষণিক উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মোবাইল উদ্ধার পূর্বক মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জড়িত আলামিনকে আটক করে নেয়া হয় থানায় হেফাজতে।
অভিযানে টিম কোতোয়ালীর অন্যান্য সদস্যরা হলেন চৌকস পুলিশ সদস্য রায়হান ও মোছাববির।
ভুক্তভোগী মোবাইল মালিক খলিলুর রহমান জানান ক্বীন ব্রীজের পাশ থেকে ৯ এপ্রি
ভোর রাতে তার মোবাইলটি নিয়ে যায় কে বা কারা চিল্লা চিৎকার করলে লোকজন পুলিশকে খবর দে। তাৎক্ষণিক পুলিশ মোবাইলটি উদ্ধার করে আমার কাছে ফিরিয়ে দে। জড়িত একজনকে আটকও করে।আমি গরিব মানুষ একজন দোকান কর্মচারী মোবাইল ফিরে পাওয়ায় আমি অনেক খুশি।
াকোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি জিয়াঊল হক জানান আলামিন (২০) কে কোতোয়ালি থানার মামলা নং ৪২ এর আসামি হিসেবে কোর্টের সোপর্দ করা হয়েছে।
সে কালীঘাট ফজলু মিয়ার কলোনির ভাড়াটিয়া মালেকের ছেলে ।
উল্লেখ্য, ক্বীন ব্রীজ হলো সিলেটের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্পট । নদীর ওপর নির্মিত স্থাপনাটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রীজটিকে সিলেট শহরের প্রবেশদ্বার বলা হয় । এতে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা রেলওয়ে ট্রেন অথবা দূরপাল্লার বাসে করে এসে এক নজরে স্থানটি যাত্রাপথে দেখতে আসেন। আবার কেউ কেউ সিলেটে হোটেল মোটেলে অথবা স্বজনদের বাসা বাড়িতে অবস্থান কালে ভ্রমণ পিপাসুরা সিলেটে ঘুরতে এসে রাতের ( দৃশ্য ,) বেলা স্থানটি উপভোগ করতে ঘুরতে আসে।
ব্রীজটি ব্রিটিশ গভর্নর মাইকেল ক্বীন এর নামে নামকরণকৃত হওয়ায় সেটি দেখার জন্য শত বছর থেকেই লোকজনের আনাগোনা বহমান।
ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে করে রিস্কা বা সিএনজি দিয়ে লোকজন আগে ব্রীজটি পারাপার হত। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে সংস্কারের করবে বলে তার ওপর দিয়ে পারাপার বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে খুলে দিলেও সেটি দিয়ে চলছে না আর যানবাহন শুধুমাত্র মোটরসাইকেল বা পায়ে হেঁটে চলাচল করছে লোকজন। এতে করে আরো সুবিধা ভোগ করছে অপরাধীরা। অপরাধীদের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাতে রয়েছেন নারী সদস্য ও।তারা হচ্ছে জাপ্টা পার্টি । চলতি পথে নারীদের হ্যান্ড ব্যাগ বা মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে কোট পয়েন্ট এলাকায় একটি নারী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বিভিন্ন রকমের অপরাধ করে থাকলেও সুরমা মার্কেটের সামন দিয়ে প্রায় সময়ই রয়েছে পুলিশের যাতায়াত। রয়েছে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির নিয়মিত অভিযান। সার্কিট হাউসে বড় বড় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যাতায়াত। এ কারণে অপরাধীদের অপরাধ কার্যক্রম এই এলাকায় বর্তমানে কিছুটা কম। কিন্তু ব্রিজের ঐ পারে (দক্ষিণ সুরমা ) গড়ে উঠেছে অপরাধীদের বিশাল নেটওয়ার্ক তাদের সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল রেলওয়ে স্টেশন , বাস স্ট্যান্ড, বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যাংকের বুতের সমনে।
একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করে থাকে তথ্য দিয়ে। তাদের এক একজনের এরিয়া রয়েছে। একজন আরেকজনের এড়িয়াতপ আসলে যোগাযোগ করে আসে। ছিনতাই, চুরি, মাদক সেবন, ইয়াবার ট্যাবলেট বিক্রি সহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে বর্তমানে উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাং সদস্যরা।
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি রায়হান হত্যাকাণ্ডে আলোচিত ও সমালোচিত থাকলেও স্থাপনা ভাংচুর বা অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেনি। ৫ আগস্ট কাণ্ডে সুযোগ বুঝে কিশোর গ্যাং সদস্যরা , ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি মিলে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি লন্ডভন্ড করে দে। যাতে করে পুলিশের উপস্থিতি তাকে না সিলেটের মূল শহরে।
তাতে করে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে নিরাপদে । এমন তার টার্গেট নিয়েই জনতার ভিড়ে ডুকে ৫ আগস্টে হামলা ও অস্ত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত