ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ওকরাইতের হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর চার মাসের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর বাবা মো. নুর ইসলাম মিস্ত্রির অভিযোগ, তার শ্বশুর মোতাহার হোসেন বহু বছর আগে জেবল হক সরদার নামের এক ব্যক্তিকে বসবাসের জন্য বাড়িতে জায়গা দিয়েছিলেন। সেই সুযোগে জেবল হক ও তার পরিবার সেখানে স্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে জায়গাটি প্রয়োজন হলে নুর ইসলাম তাদের জায়গা খালি করার অনুরোধ করেন; কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত না করে বরং উল্টো মালিকানা দাবি করতে শুরু করে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সালিশও তারা অমান্য করে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুর ইসলাম জানান, গত ১৫ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে জেবল হকের পরিবারের সদস্যরা তার বাড়ির পাশ থেকে জোরপূর্বক গাছ কাটতে গেলে তার স্ত্রী ও মেয়ে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মনোয়ারা ওরফে আনোয়ারা, ফাতেমা ও জাফরসহ কয়েকজন মিলে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে ফাতেমার লাথিতে তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের পেটে আঘাত লাগে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে পথে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ই তার গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।
পরে তাকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক ডা. মাকলুকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে তিনি ১৫ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসা নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।
নুর ইসলাম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফাতেমা বলেন, “আমরা প্রায় ৩০ বছর ধরে এই জমিতে বসবাস করছি। তারা আমাদের জোর করে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে আমার মেয়েও আহত হয়েছে এবং তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে হয়।”
শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত