
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ‘ভোট ডাকাতি’ হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান।
গত মঙ্গলবার(২৭ জানুয়ারি)ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা ফেরার পথে গাজীপুরে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে রাতে এক নির্বাচনি সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান এই মন্তব্য করেন।
রাত ১২ টায় গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠের মঞ্চে উঠার পর তারেক রহমান বলেন, “১২ তারিখ ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। কখন যাবেন? ফজর নামাজ পড়ে নয়, যার যার ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাতে ফজর পড়বেন। যাতে আগে থেকে ওখানে কেউ অবস্থান নিতে না পারে।”
“কেউ ষড়যন্ত্র করে আগেই কেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে বসে না থাকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে ।গত ১৬ বছর আপনারা দেখেছেন কীভাবে এই এলাকারসহ সারা বাংলাদেশে আপনাদের যে ভোটের অধিকার সেই অধিকারকে কীভাবে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল? এবার ডাকাতি করতে দিবেন? ভোট ডাকাতি হতে দিবেন? ভোট ডাকাতি করতে দেবে না।”
তারেক রহমান বলেন, “এই গাজীপুরের মানুষ কিন্তু প্রমাণ করে দেখিয়েছে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এই গাজীপুর থেকে হাজার হাজার মানুষ সেদিন ঢাকা শহরে গিয়েছিল। কাজেই এই যে আমাদের গণতন্ত্রকে যে পুনরুদ্ধার করেছে, স্বাধীনতাকে যে আবার রক্ষা করেছে গাজীপুরের মানুষের বিরাট একটা অবদান আছে।”“কাজেই এই অবদানকে কোনভাবেই বৃথা দিতে যাওয়া যাবে না।”
তারেক রহমান নিজের শিশুকাল স্মরণ করে বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটা হক আছে। এই সেই গাজীপুর এই সেই ভাওয়াল মাঠ যেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ছোটবেলায় আমি এই মাঠে অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি, এই মাঠে অনেক খেলেছি।”
“এই মাঠের ওইখানে… রাজবাড়ি বোধহয় এইদিকে না। ঠিক রাজবাড়ির উল্টা দিকে ওখানে ছোট ছোট দুইটা লাল রঙের বাংলো ছিল আগে। প্রথম যেই বাংলোটা ছিল এখানে মুরুব্বি যারা আছেন তাদের খেয়াল আছে। প্রথম যেই বাংলোটা ছিল ওইটাতে আমরা থাকতাম। আব্বা, আম্মা, আমি আর আমার ছোট ভাই আমরা চারজন ওটাতে থাকতাম।”
তিনি আরও বলেন, “ছোটবেলাটা আমার এই গাজীপুরের এই জায়গাটায় কেটেছে। কাজেই গাজীপুরের মানুষের কাছে আমারও একটি হক আছে, ওই হিসাবে আপনাদের কাছে আমারও দাবি থাকল ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবেন।”
তারেক রহমান বলেন, “আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে দেশ থেকে। এখন হচ্ছে দেশ গড়ার পালা, এখন হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার সময়।”
“কাজেই আমাদেরকে পরিশ্রম করতে হবে, আমাদেরকে কাজ করতে হবে, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি কাজ করি, আমরা যদি পরিশ্রম করি, ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”
গাজীপুর-১ আসনের মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের এম মনজুরুল করীম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের অধ্যাপক ডা: এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ আসনের শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং গাজীপুর-৫ আসনের ফজলুল হক মিলনকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদেরকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
গাজীপুরে আরও নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড,শিল্প-প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, গাজীপুরে যানজট নিরসনে জয়দেবপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপরে ফ্লাইওভার নির্মাণ, গাজীপুরের খাল খনন, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান প্রভৃতি পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শিষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।
তারেক বলেন, “আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে বিজয় করতে হবে। ধানের শিষের প্রার্থীদেরকে যদি জয়যুক্ত করা হয় তাহলে এই যে খাল খননের কথা বললাম, এদেরকে যদি জয়যুক্ত করা হয় তাহলে যে ফ্লাইওভারের কথা বললাম, এদেরকে যদি জয়যুক্ত করা হয় তাহলে শ্রমিকদের আবাসনের কথা বললাম এই সব গুলো কাজ কাজ করা যাবে।”
মহানগর সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে এম মঞ্জুরুল করিম রনি ও চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় জেলার পাঁচ প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় নেতা বেনজীর আহমেদ টিটো, হুমায়ুন কবির খান, মাজহারুল আলম, ওমর ফারুক শাফিন, খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, মোতালেব হোসেন, হুমায়ুন কবির সরকার, আবু তাহের মুসল্লী, সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনসহ নেতারা বক্তব্য দেন। তারেক রহমানের সাথে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত