ভোলার চরফ্যাসনে হস্তচালিত টিউবওয়েলে পাানি না ওঠায় ১০ হাজারেরও অধিক টিউবওয়েল অকেজো হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষ।
হাসপাতাল ও বাসা বাড়িতে সুপেয় পানির চরম সংকটে শিশু-বৃদ্ধসহ সকল বয়সের মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বোরো ফসল উৎপাদনের মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই চরফ্যাসনের সর্বত্র সুপেয় পানি সংগ্রহে সংকট দেখা দিয়েছে। এখানকার কোথাও হস্তচালিত টিউবওয়েলে স্বাভাবিক মাত্রায় পানি উত্তোলন হচ্ছে না। পানি সংগ্রহে নারী- পুরুষেরা এ টিউবওয়েল থেকে ও টিউবওয়েলে গিয়েও পানি সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে সুপেয় পানি সংগ্রহে চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাসন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ২৫৬টি হস্তচালিত নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১০ হাজার ৩৪ টি সচল রয়েছে। ২২২টি অকেজো, ২৮ টি সংস্কার করা হয়েছ। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরেরর তথ্য মতে টিউবওয়েলের সংখ্যা ১০ হাজার ২৫৬ টি হলেও এর প্রকৃত সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি । এখানকার অধিকাংশ বাড়িতে ব্যক্তি মালিকানায় টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে অনেক।
জানা গেছে , জমির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় খাল দখল করে ভরাট এবং পুকুর ভরাট করায় এসবের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কৃষকরা গভীর নলকুপ স্থাপন করে কৃষিতে সেচ দেওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত টিউবওয়েলে পানি ওঠছেনা।
ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে শুধু এসব কারণেই পানির স্থর নিচে নামছে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গায় অতিরিক্ত টিউবওয়েল বসানোর কারণেও শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খাল বিল পুকুর নালা সব কিছু ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত টিউবওয়েলে সুপেয় পানি উত্তোলন ( সংগ্রহ) করা যাচ্ছে না। ফলে রান্না - বান্নাসহ গৃহস্থালি কাজে প্রয়োজন মত পানি পাওয়া যায় না।
জাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন বলেন, দখলে পুকুর নালা খাল বিল সব কিছু ভরাট হয়ে যাচ্ছে, মরা খাল গুলোতেও পানির প্রবাহ না থাকায় সাবমার্সিবল গভীর নলকুপ স্থাপন করে ভুগর্ভস্থ পানি কৃষি জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ( বিএডিসি) চরফ্যাসন উপজেলার উপ সহকারী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলনের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের অনুমোদন আমরা উপজেলা সেচ কমিটির থেকে দেই না। মূলত নদী খাল থেকে পানি উত্তোলনের জন্য সেচের অনুমোদন রয়েছে । সরকারি ভাবে ১০৭ টি এলএলপি এবং ব্যক্তি মালিকানায় ১ হাজার ৭২৮টি এলএলপি সেচ পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধ মার্সিবল নলকূপের সংখ্যা জানা নেই। তবে এর সংখ্যা শতাধিক হতে পারে । আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে অবৈধ সাবমার্সিবল পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।
চরফ্যাসন উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: ফিরোজ বলেন, চরফ্যাসন উপজেলায় পৌরসভা সহ ২১টি ইউনিয়নে সরকারি মোট গভীর নলকূপ আছে ১০ হাজার এর অধিক। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায়, ব্যক্তি মালিকানায় অবৈধ ভূগর্ভস্থ সেচ চালু করার কারণে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নলকূপে পানি উঠেনা মর্মে তথ্যাদি পাওয়া যায়। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে অবৈধ ভূগর্ভস্থ সেচ বন্ধ করা জরুরী।
তিনি আরো বলেন, চরফ্যাসন উপজেলায় সরকারি বরাদ্দে ৬ নং হস্তচালিত পাম্পের পরিবর্তে সাবমারসিবল পাম্প রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
যাতে করে শুকনা মৌসুমেও চরফ্যাসন উপজেলায় নিরাপদ পানির কোন সংকট তৈরি না হয়।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত