
দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মো. আমজাদ মুন্সীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনরা নিজ উদ্যোগে রংপুর মেডিকেল কলেজে পাঠাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স রংপুরে নেওয়ার অনুমতি না থাকায় তা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় রোগীকে সিএনজি মাধ্যমে যেতে হয়েছে এবং তাই সময়মতো রংপুর পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজে বৃহস্পতিবার তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বজনরা জানিয়েছেন, রংপুরেই সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা সম্ভব।
মৃতের ছেলে রকি মুন্সী বলেন, অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ার কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। আমরা ঠিক সময়ে রংপুর পৌঁছাতে পারিনি। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো আমার বাবা বেঁচে থাকতেন। দিনাজপুর জেলা বিরামপুর উপজেলা থেকে তো রংপুরে অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছে। তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে কেন সমস্যা হলো, এটা তদন্ত করা উচিত। এমন ঘটনা আর যেন না ঘটে।
রানা হোসেন বলেন, হাকিমপুর থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে যেতে ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যা অনেক সময় নেয়। হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকায়, একটি রোগী নিয়ে গেলে পরবর্তী রোগীকে যেতে অনেক সময় লাগে। তাই, সরকারের কাছে দাবি, আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স দিলে হাকিমপুরের মানুষ উপকৃত হবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইফতেখার জাহান বলেন,উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য রংপুর মেডিকেল কলেজে রোগী পাঠাতে হলে সিভিল সার্জনের অনুমতি প্রয়োজন। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের কাজ করতে হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সাবেক হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেন রাজ বলেন, মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় দেরি হয়েছে, যা দুঃখজনক। জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া দ্রুত করা উচিত।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জরুরি রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ ও অনুমতি প্রক্রিয়া দ্রুত করা উচিত, যাতে কেউ সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত