জুলাই - আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যা, ইতিহাসের নানা সময়কার ইসলামপন্থীদের ওপর নির্যাতন, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির, নীলফামারী জেলা শাখা।
একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, "ফ্যাসিস্ট শাসনামলে" রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে দায়ের করা সকল রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনীতির জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আজ বুধবার (৭ মে) বিকালে নীলফামারী শহরের প্রধান সড়কে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা শাখার ছাত্রশিবির সভাপতি তাজমুল হাসান সাগর তিনি বক্তব্যে বলেন, “দেশে বর্তমানে যে অবিচার চলছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। এটিএম আজহারুল ইসলামকে রাজনৈতিক কারণে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে তার মুক্তি চাই।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই - আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যাসহ দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার বিচার এখন সময়ের দাবি। যারা ইসলামপন্থীদের দমন করার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন করেছে, তাদেরকেই একদিন ইতিহাস বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।”
সমাবেশে বক্তারা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “যদি এই রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধ না হয়, তাহলে ছাত্রসমাজ রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
জেলা ছাত্রশিবিরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্যে সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। তারা সকল রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর চাপ ও দমন নীতির অবসান দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এটিএম আজহারুল ইসলামকে ২০১৪ সালে যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তার মুক্তির দাবিতে ইসলামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ ও কর্মসূচি পালন করে আসছে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত