
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) গোসিংগা ইউনিয়ন শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ সরকারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতের গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর কে, বি,এম ইটভাটায় দুর্বৃত্তরা ফরিদ সরকারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফরিদ সরকার উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের জামাল সরকারের ছেলে। সে গোসিংগা ইউনিয়নে জাসাসের একজন সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। তার হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দলীয় নেতাকর্মীরা এ হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেছেন।
নিহতের বাবা জামাল সরকার বলেন, আমার ছেলে মাটি এবং ইটা বালির ব্যবসা করতো।রাত দশটার দিকে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। যাওয়ার আগে বলেছে লতিফপুর ইট খলায় যাচ্ছে। হঠাৎ রাত পৌনে চারটার দিকে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার খুরশিদ আলম রফিক প্রধান ফোন করে জানান ফরিদ লতিফপুর কেবিএম ইট খলায় আহত অবস্থায় পড়ে আছে।তাৎক্ষণিক আমরা ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি ফরিদ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। কিন্তু সে তখন কোন কিছুই বলতে পারিনি। আমরা তখন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে পূর্ব শত্রুতা জেরে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে।
গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য খুরশিদ আলম রফিক প্রধান বলেন, রাত পৌনে তিনটার দিকে আমাকে কেবিএম ব্রিকস এর ম্যানেজার অজিদ সরকার ফোন দিয়ে জানিয়েছে ফরিদ সরকারকে কে বা কাহারা মেরে ফেলে রেখেছে। আমি তাৎক্ষণিক তার বড় ভাই ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য আসাদুজ্জামান সবুজকে বিষয়টি জানিয়েছি।
কে,বি,এম ব্রিকস এর ম্যানেজার অজিদ সরকার বলেন,আমি রুমে ঘুমিয়েছিলাম রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে নৈশপ্রহরী শফিকুল আমাকে ডেকে জানায় বাহিরে এক লোক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আমি দরজা খুলে দেখি ফরিদ সরকার। আমি এই মুহুর্তে আশেপাশে কাওকে দেখিনি।পরে মিষয়টি আমি ৬নং ওয়ার্ড সদস্য খুরশিদ আলম রফিক প্রধানকে জানিয়েছি।
নৈশ প্রহরী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি মাটির গাড়ির সাথে রাস্তায় ছিলাম। এসে দেখি এখানে একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, পরে আমি বিষয়টি ম্যানেজারকে জানিয়েছি।আমি এ সময় আশেপাশে কাউকে দেখিনি।
এদিকে শ্রীপুর উপজেলা জাসাসের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হেলাল প্রধান ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) এবং সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের কাছে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ও ‘ক্লু’ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।” নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াদিন।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত