
ভোলার চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। বুধবার ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা প্রতীক) প্রার্থীর নির্বাচনী কর্মীদের ওপর হামলার অপ-প্রচারের নিন্দা এবং ফেসবুক পেইজে জামায়াত প্রার্থীকে হত্যার হুমকির ঘটনায় চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় জামায়াতে ইসলামীর চরফ্যাশন কার্যালয়ে দলটির উপজেলা আমির অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ শরীফ হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত বুধবার সকালে পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের কয়েকজন নারী কর্মী পুরুষ ভোটারদের কাছে প্রচারপত্র বিতরণ করছিল।
এ সময় সোহেল নামের একজন প্রচারপত্র সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
তিনি বলেন, আমরা যতদূর জানতে পারি, সোহেল বলেছিল নির্বাচন আসলেই পীরসাহেব চরমোনাই উল্টাপাল্টা করে ফেলেন। এ প্রতিক্রিয়ার পর নারী কর্মীরা অন্য বাড়ীতে প্রচারপত্র বিলিকরতে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর হাতপাখা প্রতীকের পুরুষ কর্মীদের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয়।
তারা হলেন প্রার্থীর ছেলে ও ইসলামী আন্দোলনের কর্মী তাহজিব (১৭) এবং যুব আন্দোলন ভোলা দক্ষিণ শাখার সেক্রেটারি মো. ফয়সল আহমাদ। তারা সোহেলের ভিডিও করতে থাকে এবং তাদের নারী কর্মীদের কেন কমেন্ট করছে তার কারণ জিজ্ঞাসা করে ।
সোহেলের কমেন্টের বিষয়টি অস্বীকার করা অবস্থায় বশির মাস্টার নামে একজন বয়োবৃদ্ধ লোক আসলে তাকে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা গালিগালাজ করে। এ সময় সোহেল প্রতি উত্তর করে। এমন সময় স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ আলাউদ্দিন বাজার থেকে আসে।
উভয়ের মাঝে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের তিনি ভিডিও করা শুরু করেন। এমন সময় ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী প্রফেসর কামাল উদ্দিনের মেয়ে ফারিয়া কামাল চলে এসে বলে আপনি আমার ভিডিও ধারণ করেন কেন? জবাবে হাফেজ আলাউদ্দিন তার ভিডিও ধারণের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি আপনার ভিডিও করছিনা ওদের ভিডিও করছি।
এ কথা বলার সাথে সাথে যুব আন্দোলনের নেতা ফয়সাল আলাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এতে হাফেজ আলাউদ্দিন আহত হন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিলি বলেন, গত কয়েকদিন যাবত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামালকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের কল রেকর্ড থেকে হত্যার হুমকি প্রদান ও গালিগালাজ করা হয়। এ বিষয়ে আমাদের দলের পক্ষ থেকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ ও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
অথচ ইসলামী আন্দোলন কর্মীরা হাফেজ আলাউদ্দিনের হামলার ঘটনাটি ও জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থীকে হত্যার হুমকি এবং গালিগালাজের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন, তাদের প্রার্থীর মেয়েকে হাফেজ আলাউদ্দিন হেনস্থা করেছে। অথচ তারা হামলার সপক্ষে কোন ভিডিও প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
এদিকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী প্রফেসর আলহাজ্ব এএমএম কামাল উদ্দিনও গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে তার মেয়ে আসন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভানেত্রী মারিয়া কামালের ওপর দাঁড়িপাল্লার কর্মিদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এবং অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবী জানান।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত