পিরোজপুরের কাউখালীতে নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা রয়েছে শতাধিক মৃত্যু ব্যক্তি, প্রবাসী ও ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশার লোকজন। এরাই হয়েছেন নিবন্ধিত জেলে, আছে জেলে কার্ড। কার্ডের বদৌলতে পান খাদ্য সহায়তা। তাদের লাইনেও দাঁড়াতে হয় না। অন্য লোকের মাধ্যমে চাল চলে যায় তাদের বাড়িতে। আর মৃত্যু ব্যক্তি ও প্রবাসীদের বরাদ্দকৃত সহায়তা স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি ও বিগত সরকারের কিছু প্রভাবশালী লোকজন আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন। মৃত্যু ব্যক্তির পরিবার ও প্রবাসীরা জানেন না যে তাদের নামে জেলে কার্ড রয়েছে। প্রকৃত জেলেরা সরকারি তালিকায় নিবন্ধিত না থাকায় কোন খাদ্য সহায়তা তারা পান না।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের তালিকা তৈরীর পর ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর হালনাগাদ করে কিছু ভুয়া লোককে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন জেলেদের নাম সংযুক্ত করা হয়। উপজেলায় সর্বমোট ২ হাজার ২৭৫ জন নিবন্ধিত জেলেদের কার্ড রয়েছে।
সম্প্রতি জেলেদের লিখিত অভিযোগে ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের কেশতা বিজয়নগর গ্রামের ৮৫ জন নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই তালিকায় ৫ জন মৃত্যু ব্যক্তি নাম রয়েছে। এদের মধ্যে আব্দুল আউয়ালের ছেলে মিজান জানেন না যে তার বাবার নামে জেলে কার্ড রয়েছে। মিজান জানান তার বাবার নামে বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা এতদিন আত্মসাৎ করে আসছে।
বিজয়নগর গ্রামের খলিলুর রহমান জানান, অত্র ইউনিয়নের একাধিক প্রবাসী ব্যক্তিদের নামে মৎস্য কার্ড রয়েছে। অত্র ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল হক ও বিগত সরকারের মৎস্যজীবী নেতারা এসব ভুয়া নিবন্ধিত জেলেদের নামের বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা ভুয়া মাস্টাররোল দেখিয়ে আত্মসাৎ করে। জেলে নান্না মোল্লা জানান, ভুয়া জেলেদের কারণে খাদ্য সহায়তা বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে এক শ্রেণীর জনপ্রতিনিধিরা।
তারা টাকা ছাড়া তালিকায় নাম উঠান না, তাই প্রকৃত জেলেরা এরা বাদ পরে যান।
চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লাইকুজ্জামান তালুকদার মিন্টু জানান, এ তালিকা প্রায় ১২ বছর আগের করা। আমরা এখন যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে সঠিক জেলেদের নাম নিবন্ধন করেছি
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, তালিকাটি অনেক আগের। আমরা অভিযোগ পেয়েছি তাই সঠিক যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে জেলেদের নাম নিবন্ধন করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল মোল্লা বলেন, মৃত ব্যক্তি ও অন্যান্য পেশায় জেলের কার্ড থাকার অভিযোগ পেয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত