
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬। গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) তে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ভোট গ্রহণ।
নির্বাচন ঘিরে কয়েক মাস ধরেই এলাকায় ছিল টানটান উত্তেজনা, রাজনৈতিক উত্তাপ কিন্তু ভোটের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছিল দৃশ্যত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৭৯ জন। এ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় মোট ৮০টি কেন্দ্রে। মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫০৬। এ আসনে ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬৪.৩১ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় বেশ উল্লেখযোগ্য ।
ভোটের সারি, নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তরুণদের আগ্রহ নির্বাচনী মাঠকে পরিণত করেছিল এক ধরনের গণতান্ত্রিক উৎসবে।
ট্রাক প্রতীকের নিরঙ্কুশ জয়: নুরুল হক নূরের বিজয়ঘণ্টা বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে পটুয়াখালী-৩ আসনে ট্রাক প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) চেয়ারম্যান, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর।
তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৭৪ হাজার ২৫৭।
এ বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে ভোটারদের বড় একটি অংশ যে এবার পুরনো হিসাব বদলে নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দিতে চেয়েছে—এই ফলাফল তারই প্রতিফলন।
ভোট গণনা শেষে নুরুল হক নূরের সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দের ঢেউ। বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, স্লোগান, মিষ্টি বিতরণ এবং উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ।
এই আসনে নুরুল হক নূরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ হাসান মামুন, যিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৮৮৭ ভোট। এবং তৃতীয় অবস্থানে মুফতি আবু বক্কর সিদ্দিক (হাতপাখা ) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৬৬ ভোট।দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অধ্যাপক শাহ আলমের ভোট ১০০২৫।
স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন মাত্র ৭১৭ ভোট। ভোটের ফলাফলে তিনি ছিলেন সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা প্রার্থী।
ফলাফলের সারসংক্ষেপ (পটুয়াখালী-৩)
🔹 মোট ভোটার: ২,৫২,৬৮৯ জন
🔹 মোট ভোটকেন্দ্র: ৮০টি
🔹 প্রাপ্ত ফলাফল কেন্দ্র: ৮০টি
🔹 মোট প্রদত্ত ভোট: ১,৬২,৫০৬
🔹 ভোট কাস্টিং: ৬৪.৩১%
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত