
জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম এর সাবেক সভাপতি ও গ্রীন ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম রজব আলী খান নজিব এর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটের জিন্দাবাজার ফাউন্ডেশন এর কার্যালয়ে ৯ আগস্ট শনিবার বাদ আছর মরহুম রজব আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মৃত্যুবার্ষিকীর দিন ৮ আগস্ট শুক্রবার বাদ জুম্মা খতমে কোরআন, রজব আলী খান স্মরণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রাকিব আলী খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত খতমে কোরআন পাঠ শেষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশন এর কোষাধক্ষ সৈয়দ আলমগীর হোসেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট জজ কোর্টের সাবেক পিপি এডভোকেট নোমান মাহমুদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের সভাপতি নাজমুল কবীর পাভেল, সাবেক সহ-সভাপতি দুলাল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল ইসলাম, সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ঢাকার ডাক এর সিলেট ব্যাুরো চীফ সাংবাদিক এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া।
ফাউন্ডেশন এর মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক বায়জিদ খানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন রহমানিয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর সভাপতি আতাউর রহমান খান সামছু, দপ্তর সম্পাদক আলামিন, রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুমিনুর রহমান, মোনাজাত পরিবেশন করেন ধর্মীয় শিক্ষক আনিসুল হক।
সভায় বক্তারা বলেন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন মরহুম রজব আলী খান নজীব। তিনি একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও সুস্থ সবল মানুষের মত দেশ, সমাজ এবং প্রতিবন্ধী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। রজব আলী খান কে অনুসরণ করলে দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।।
দোয়া মাহফিলে ঊপস্থিত ছিলেন, জিডিএফ সদস্য পার্থ সারথি দত্ত, ফটোগ্রাফার কৃতিশ তালুকদার , জিডিএফ এর শিক্ষক মোঃ শাহ জাহান,আফজাল শিকদার, সমন্বয়কারী শারমিন আক্তার রেবা, শিক্ষক স্বরূপা বেগম, কম্পিউটার অপারেটর তাজকিরা জান্নাত সুইটি সদস্য শিলন বেগম ও ফাতেমা বেগম।
এ প্রতিবেদকের কাছে মরহুম রজব আলী সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক মো : বায়জিদ খান,২০১৭ সালে ৮ আগস্ট ভোর ছয়টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার কোলে মাথা রেখেই ভাই রজব আলী খান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন উল্লেখ করে তিনি আহ্বান জানান , আরেকজন রজব আলী সৃষ্টি করতে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে।
রজব আলীর জীবন থেকে প্রতিবন্ধী মানুষের অনেক কিছু শেখার আছে, সমাজ সচেতনতায় তার রেখে যাওয়া কর্ম অনুসরণ করা জরুরী বলেও মনে করেন তিনি। আজকের সমাজে প্রতিবন্ধীদের যে পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি থাকা অবস্থায় এ কাজগুলো রজব আলী খান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেন দরবার করে আদায় করেছেন। আজকে সুবিধা বঞ্চিত মানুষজন যে সেবা পাচ্ছে সেখানে রজব আলী খানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এক সময় প্রতিবন্ধীদের অবহেলা করত ।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা কারো গায়ে লেগে গেলে মার খেতে হত , প্রতিবন্ধীদের মানুষ বুঝা মনে করত। আজ প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতায় মানুষ এগিয়ে আসছে। সেই সমাজ সচেতন করার গুরুদায়িত্ব যিনি পালন করেছেন তিনি ছিলেন রজব আলী খান। তিনি এ অঞ্চলে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা বিস্তারে ও কাজ করেছেন বলে জানান বায়জিদ খান
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত