
দিগন্তজোড়া জলাভূমির ওপর যতদূর চোখ যায়, ততদূর শুধু সবুজের বিস্তার। আর এই সবুজের পেছনে রয়েছে বানারীপাড়ার কৃষকদের উদ্ভাবনী শক্তি—‘ভাসমান বীজতলা’। বর্ষা মৌসুমে ইলুহার এলাকার বিস্তীর্ণ জমি যখন পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা; তখনও কৃষকরা থেমে থাকেন না। পানির ওপর ভাসমান বীজতলায় সবজি চাষ করে তারা বদলে দিচ্ছেন কৃষির চিত্র।
বাংলাদেশে ভাসমান চাষাবাদের ইতিহাস ৩০০–৪০০ বছর পুরোনো। জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতায় এই ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতিটি আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ‘ভাসমান বাগান’–কে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামের কৃষকেরা সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে এখন বংশপরম্পরায় ভাসমান বীজতলায় চারা উৎপাদন করছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম সফল কৃষক তোঁতা মিয়া। তিনি জানান, পঞ্চাশ শতক ভাসমান বীজতলায় চারা উৎপাদন করেন তিনি। ছয়জন শ্রমিকের সঙ্গে নিজেও ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেন। মাস শেষে লক্ষাধিক টাকা আয় করে তিনি এখন সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী।
তবে কৃষি দপ্তরের প্রতি কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সরকারিভাবে সারসহ কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয় না। উদ্যোগ নিলে বানারীপাড়ার কৃষকরা দেশের কৃষিখাতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।”
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তনয় সিংহ বলেন,
“বানারীপাড়ার ইলুহার ইউনিয়নে ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত চারা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে—এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তবে সরকারিভাবে এ পদ্ধতির জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। আমরা উপজেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে ভাসমান বীজতলায় চারা উৎপাদন এখন শিক্ষিত বেকার যুবকদেরও নতুন পথ দেখিয়েছে। অনেক কৃষকপুত্র ও নব উদ্যোক্তা এই পদ্ধতিতে যুক্ত হয়ে প্রতিনিয়ত সাফল্য অর্জন করছেন।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত