
বরগুনার বামনায় সাহেব বাড়ি বাজারের ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের পূর্নবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে গত ২ মার্চ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও দুটি প্রিন্ট মিডিয়ায় নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সৈয়দ নাহিয়ান আহসান রাহবার।
গত বুধবার এক পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
লিখিত বক্তব্যে নাহিয়ান আহসান রাহবার বলেন, গত ২ মার্চ বামনা প্রেস ক্লাবে জনৈক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। প্রকৃত ঘটনা হলো, গার্লস স্কুলের সামনে অবৈধভাবে ফুটপাথ দখল করে থাকা দোকানদারদের জনস্বার্থে ও স্কুলছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল ইমরান স্যারের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তীতে বামনা বাজারে একটি পরিত্যক্ত কবরস্থানের নিচু জায়গা ভরাট করে ৩০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে অস্থায়ী শেড করে দিয়ে সেখানে পুনর্বাসন করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি তৎকালীন ইউএনও সাহেবের প্রত্যক্ষ তদারকি ও বাজার কমিটির নিয়ন্ত্রণে সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্র ও যুব সমাজ হিসেবে তারা কেবল সেখানে কায়িক শ্রম ও সহায়তা দিয়েছেন। আর্থিক লেনদেনের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। হিসাব অনুযায়ী ৪" ফুট বাই ৮" ফুট ৩০টি শেড নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজে মোট ব্যয় হয়েছে ৩,৭৬,৯০০ টাকা, প্রত্যেক ব্যবসায়ী ১৩,০০০ হাজার টাকা করে বাজার কমিটির সদস্য মোঃ আবুসালেহর কাছে ও কেহ কেহ নির্বাহী অফিসার সাহেবের কাছে জমা দিয়ে ছিলেন।নাহিয়ান আহসান রাহবারের দাবি,
এলাকার কিছু চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী মহল এবং রাজনৈতিক ‘প্রতিপক্ষ ওই খাস জমি দখলের পায়তারা করছিল। তাদের সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় এবং গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাদের বৈধ ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের ব্যবসার
ক্যাবেল কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা এই ইন্টারনেটের ক্যাবল কেটে দেওয়ার ঘটনায় জনমত বিপক্ষে যাওয়ায় তারা এখন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের ও আমাদের পরিবারের সম্মান হানী করার চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান স্যার তিনি ব্যবসায়ীদেরকে ৪ "ফুট বাই ৮" ফুট নির্মিত দোকান ঘর বুঝিয়ে দেন।
অন্য এক ব্যবসায়ী তার ভাগের ১৩ হাজার টাকা অদ্যবধি জমা দেয়নি।
আল ইমরান স্যার বদলি হলে কিছু দিন পরে কয়েক জন ব্যাক্তি নবাগত নির্বাহী অফিসার মোসাঃ নিকহাত আরা মহোদয়ের কাছে ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ কৃত দোকান ঘরের পুঃনরায় হিসেব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য তাগীদ দিলে তিনি ছাত্রদের পক্ষে আমাকে এবং অফিসার ইনচার্জ মোঃ হারুন অর রশিদ হাওলাদার, বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়িদের এবং বর্তমান বাজার কমিটির সভাপতি, সম্পাদকে ডেকে আলোচনা করেন আমার কাগজ পত্র দেখে ধন্যবাদ জানিয়ে বর্তমান বাজার কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকে ঐ কবরস্হান বাজার উন্নয়নের জন্য দ্বায়ীত্ব দেয়া হয় ঐ ব্যবসায়িদের বক্তব্য অনুয়ায়ী দোকান ঘরগুলো ভেঙ্গে মাঝ খানে দুটি টল সেট ও নিজ খরচে ইটের দেয়াল ও ফ্লর করে নিতে বলেন এবং দোকান ঘরের চার পাসে সামনে দিয়া পাকা রাস্তা তৈরী ও ৩০ টি ঘর ভেঙ্গে বড় করে ২০ টি ঘর নির্মাণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন এবং এ সিদ্ধান্তের একটি রেজুলেশন করেন।
হঠাৎ করে ঐ সকল ব্যবসায়ীদের মধ্যে থেকে কিছু ব্যবসায়ীরা একত্র হয়ে ২ মার্চ বামনা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন ‘আমি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছি’। বিষয়টি অত্যান্ত হাস্যকর। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলেও দাবী করেন। তিনি বলেন, এতে করে আমার ও আমার পরিবারের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯০০ শত টাকার কাজে কত টাকা আত্মসাৎ করা যায় বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই ৪" বাই ৮" ফুট দোকান ঘর গুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল। এছাড়া অন্য কোন অভিযোগ কোনদিন শুনি নাই। অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এখন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ও কথা বলেন।
© ২০২২ - ২০২৫ সমবানী কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত